বুধবার | অক্টোবর ২০, ২০২১ | ৫ কার্তিক ১৪২৮

খবর

জাতিসংঘে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বিষয়ক রেজল্যুশন উত্থাপন করল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের শিকার বিশ্বের ১১ লাখ মানুষকে ২০৩০ সালের মধ্যে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় সবার জন্য দৃষ্টি: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ শীর্ষক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রথম রেজল্যুশন। ফ্রেন্ডস অব ভিশন-এর পক্ষে রেজল্যুশনটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। রেজল্যুশনটি উত্থাপনের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ দেয় গ্রুপের সহসভাপতি এন্টিগা, বার্বাডোস আয়ারল্যান্ড। এতে ১১৫টি দেশ সহপৃষ্ঠপোষকতা করে। রেজল্যুশনটিতে সুদৃঢ় কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার মাধ্যমে কোটি কোটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কাছে শক্তিশালী আশার বার্তা পৌঁছতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, রেজল্যুশনটি চক্ষুসেবার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রেজল্যুশনটিতে নেতৃত্ব দিতে পেরে বাংলাদেশ সম্মানিত বোধ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের ১১ লাখ মানুষ অন্ধত্ব নিয়ে বসবাস করছে। প্রতিরোধযোগ্য দৃষ্টিহীনতা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, যার জন্য প্রয়োজন একটি বৈশ্বিক সমাধান। এক্ষেত্রে আমাদের ঐকমত্য বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ, তাদের পরিবার সম্প্রদায়ের জীবনধারায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা এবং অন্ধত্বজনিত কারণে মানুষের উৎপাদনশীলতা হারানোর ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, যা একটি বিশাল বৈশ্বিক আর্থিক বোঝা। চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ শুধু শিক্ষা থেকে শিশুদের ঝরে পড়ার হার ৪৪ শতাংশ হ্রাস করে না বরং এটি বেতনভুক্ত চাকরি পাওয়ার সুযোগ ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। অন্ধত্বের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ মহিলা বা বালিকা; পুরুষদের তুলনায় তাদের অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও শতাংশ বেশি।

রেজল্যুশনটিতে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবাকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনের জাতীয় প্রতিশ্রুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দাতাদের লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব মোকাবেলায় সহযোগিতা প্রদানের কথাও বলা হয়। জাতিসংঘ যাতে এর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি তাদের কাজে যুক্ত করে নেয়, সে অনুরোধও জানানো হয়। এছাড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং -সংক্রান্ত পরবর্তী পর্যালোচনায় চক্ষুসেবায় নতুন একটি লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় রেজল্যুশনটিতে।

যথাযথ চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার নেই এমন প্রায় ৯০ ভাগ বাস করে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। ২০১৮ সালের এক হিসাবমতে, বাংলাদেশে ৩০ তদূর্ধ্ব বয়সের অন্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় লাখ ৫০ হাজার এবং ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের চশমা বা অন্য কোনো উপায়ে দৃষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন