শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ | ৯ আশ্বিন ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

পর্যটন খাত নিয়ে সতর্ক প্রচারে জাপান

বণিক বার্তা ডেস্ক

জরুরি অবস্থার কারণে অলিম্পিক চলাকালেও ভিড় নেই টোকিওর রেইনবো ব্রিজে ছবি: এপি

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অলিম্পিক গেমস যখন যে দেশ আয়োজন করে তখন এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে খেলা বাদেও নানা কিছু। প্রতিবারই দেখা যায়, অলিম্পিকের খবর সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের সামনে দেশের পর্যটন, দর্শনীয় স্থান ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে নিজেদের এক ধরনের বিজ্ঞাপনও করে দেশগুলো। আবার অলিম্পিক গেমস এটি দেখতে আসা পর্যটকদের মাধ্যমে সে বছর বিপুল আয়ও করে আয়োজক দেশগুলো।

তবে এবারের টোকিও অলিম্পিক হচ্ছে একেবারেই অন্য রকম আমেজে। গ্যালারিতে নেই দর্শক, নেই পর্যটকের ভিড়। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বারগুলোতে নেই হুল্লোড়, নেই উৎসবের আমেজ। কভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে এবার জারি করা জরুরি অবস্থার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে অলিম্পিক ২০২০।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য সময়ের মতো এবারো আগত সাংবাদিকদের জাপানের দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে, তবে তা একেবারেই সীমিত পরিসরে। অলিম্পিকের সব দর্শনার্থীকেই অতি সাবধানে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হচ্ছে। টোকিওর কোটি ৪০ লাখ মানুষ থেকেও তাদের দূরে রাখা হচ্ছে।

যে সাংবাদিকরা এসেছেন তাদেরও ঘুরতে বের হওয়ার আগে একটি প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। যেখানে লেখা আছে, নিয়ন্ত্রিত বিশেষ সফরে তারা দিকভ্রষ্ট হবেন না। অর্থাৎ নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করবেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবেন না। যদি কেউ নিয়ম ভঙ্গ করেন তাহলে তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।

পর্যটকদের প্রথম গন্তব্য ছিল টোকিও সাগরের তীরে অবস্থিত ৪০০ বছরের পুরনো হামা রিকইয়ু বাগান পরিদর্শন। স্থানীয় পর্যটকরা সবাই বের হয়ে যাওয়ার পরই প্রবেশ করেন অলিম্পিকের অতিথিরা। পুরো বাগান ঘুরে দেখেন তারা। সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে ছবি তুলতে যথাযথ স্থান নির্বাচন করে দেন ট্যুর গাইড। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাসে উঠে বসেন দর্শনার্থীরা। বাসটি যখন বাগানের বিরাট পাথুরে ফটক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের বিদায় জানান বাগানটির তত্ত্বাবধায়ক। জাপানের রীতি অনুযায়ী, অতিথিরা দৃষ্টিসীমার বাইরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তেমনভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বাগানটির তত্ত্বাবধায়ক।

বাসটি হাইওয়ে ধরে ছুটে চলে। পথে টোল দেয়ার জন্য থামতে হয়। জাপানি চালকরা যেন অলিম্পিকে আগতদের গাড়িতে না তোলেন, সেজন্য বাড়ানো হয়েছে টোলের অর্থও। বাসটি যখন একটি আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল তখন দেখা গেল ফুটপাতগুলো ফাঁকা। নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এখন বাড়ির বাইরে কম বের হচ্ছেন স্থানীয়রা।

পর্যটকবাহী বাসটি এরপর প্রবেশ করে জাদুঘরে। রাতের বেলা জাদুঘর ছিল ফাঁকা। সাংবাদিকরা একা একাই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন সেখানে। দেখছিলেন ১৯৬৪ সালের অলিম্পিকের নানা স্মৃতি। যে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল আট হাজার সাদা পায়রা। শান্তির প্রতীক হিসেবেই তাদের উড়িয়ে দেয়া হয়।

এখন আবার টোকিওতে এসেছে অলিম্পিক। যদিও আগের মতো উদযাপনের বাহার নেই। কারণ একটি ভয়াবহ ভাইরাস এরই মধ্যে পৃথিবীর ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। আর সে ভাইরাসের ভয়েই অলিম্পিকজুড়ে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

জাদুঘর ভ্রমণ শেষে আবার পর্যটকদের নিয়ে ফিরে যায় বাসটি। তাদের পৌঁছে দেয়া হয় অলিম্পিকের নিরাপদ সুরক্ষিত বেষ্টনীর ভেতরে।

জাপানের ৩৪ শতাংশ মানুষ এরই মধ্যে কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকার আওতায় এসেছে। দেশটির বেশির ভাগ মানুষের ধারণা, অলিম্পিক গেমস তাদের দেশের জন্য সুপার-স্প্রেডার ইভেন্ট হতে পারে। সে কারণেই অলিম্পিক নিয়ে বাড়তি সতর্ক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে আয়োজকরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন