রবিবার | জুলাই ২৫, ২০২১ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

এলএনজির বিশ্ববাণিজ্য চাঙ্গা করছে দক্ষিণ আমেরিকার ঊর্ধ্বমুখী আমদানি

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দক্ষিণ আমেরিকায় ২৬ হাজার ৩০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হয়েছে ছবি: শিপিংওয়াচ

করোনা মহামারীর কারণে গত বছরজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বিশ্ববাণিজ্য ছিল স্থিতিশীল। বছর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সচল হতে শুরু করায় জ্বালানি পণ্যটির বাণিজ্য চাঙ্গা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে এলএনজির ব্যাপক আমদানি পণ্যটির বিশ্ববাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করছে।

ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে গত মাসে দক্ষিণ আমেরিকায় রেকর্ড সর্বোচ্চ এলএনজি আমদানি করা হয়। আমদানি বাড়াতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস এক প্রতিবেদনে জানায়, জুনে দক্ষিণ আমেরিকায় সব মিলিয়ে হাজার ৪০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হয়। আমদানি প্রায় তিন বছরের শীর্ষে উঠে এসেছে। ২০১৮ সালের আগস্টে সর্বশেষ আমদানিতে রেকর্ড অর্জিত হয়। সময় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে হাজার ৮০০ ঘনফুট এলএনজি কিনেছিল লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত অঞ্চলটিতে এলএনজি আমদানি ২০১৫ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। সময় সব মিলিয়ে আমদানি হয়েছে ২৬ হাজার ৩০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস জানায়, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে এলএনজি আমদানি বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে মোট আমদানির প্রায় অর্ধেক হিস্যাই ব্রাজিলের। অঞ্চলটির মোট চাহিদারও প্রায় অর্ধেক পূরণ করেছে দেশটি। জুনে ব্রাজিল সব মিলিয়ে হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, চলতি বছর ব্রাজিলে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। এক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী খরায় দেশটির কৃষি বিদ্যুৎ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খরায় ব্যাপক পানি সংকটের কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

ব্রাজিলের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ওএনএসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব মধ্যপশ্চিম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। গত মার্চের পর থেকে এসব অঞ্চলের জলাধারগুলোর পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে। চলতি মাসে পানির স্তর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২৯ শতাংশ নিচে নেমেছে। কারণে দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে। ফলে বাধ্য হয়েই গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটি। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে ব্রাজিলে এলএনজির চাহিদা আকাশছোঁয়া। চাহিদা মেটাতে উৎপাদনেরও অধিক এলএনজি আমদানি করছে দেশটি। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে আর্জেন্টিনায়ও এলএনজির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। দেশটি সাধারণত বলিভিয়া থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে। তবে চলতি বছর দেশীয় উত্তোলন স্বাভাবিক আমদানি স্থানীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে না। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে উত্তর গোলার্ধের দেশটি।

করোনা মহামারীতে নানা বিধিনিষেধের কারণে চলতি বছর আর্জেন্টিনার এলএনজি উত্তোলন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশটি লক্ষ্যণীয় মাত্রায় এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা এলএনজি আমদানিতে পাঁচটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব দরপত্রের অধীনে গত মে মাসে দেশটিতে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। জুনে সরবরাহের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সময় সব মিলিয়ে আমদানি হয় হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি। ২০১৮ সালের আগস্টের পর এটি এক মাসে সর্বোচ্চ আমদানি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন