শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ | ৯ আশ্বিন ১৪২৮

প্রথম পাতা

কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরো সাতদিন বাড়ানো হয়েছে। বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বর্ধিত সময়েও চলমান বিধিনিষেধের সব শর্ত প্রতিপালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কভিড-১৯ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় জুলাই মধ্যরাত থেকে ১৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা বর্ধিত করা হলো।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সরকার গত জুলাই থেকে সাতদিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। দেয়া হয় ২১টি নির্দেশনা। বিধিনিষেধের পাঁচদিন পার হতে চললেও এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। কিন্তু সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল মধ্যরাতে। এর মধ্যে বিধিনিষেধ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। প্রেক্ষাপটে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হলো।

চলমান বিধিনিষেধে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, শপিং মল, দোকানপাট গণপরিবহন ছাড়াও যন্ত্রচালিত যানবাহন (জরুরি কাজে নিয়োজিত ছাড়া) চলাচল বন্ধ রয়েছে। সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার বিনোদনকেন্দ্র, জনসমাবেশ হয় ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও বন্ধ। অতি জরুরি প্রয়োজন (ওষুধ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সত্কার ইত্যাদি) ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করেছে সরকার। নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষকে গ্রেফতার জরিমানা করা হচ্ছে।

তবে শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা জরুরি পরিষেবা, স্বাস্থ্যসেবা, করোনার টিকাদান, রাজস্ব আদায় কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, গণমাধ্যম (প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি, ফার্মাসিউটিক্যালসহ অন্যান্য জরুরি বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারছে। পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, কার্গো ভেসেল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রয়েছে। বন্দর (বিমান, সমুদ্র, নৌ, স্থল) সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে।

চলমান বিধিনিষেধে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনাবেচা করতে দেয়া হচ্ছে। টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাচ্ছে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইনে কেনা বা খাবার নিয়ে যাওয়া) করতে পারছে। তবে হোটেলে বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বিধিনিষেধের সময় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন