বৃহস্পতিবার | জুলাই ২৯, ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

শেষ পাতা

সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ শতাংশ

সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সময়ে রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। গতকাল আরো ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ হাজার ৫৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিকে গতকাল থেকে সারা দেশে চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

১৩ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ৩৯৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আগের সপ্তাহে ২৭০ ছিল। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। একই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৫৪১ জন। আগের সপ্তাহে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ১৭২। ফলে ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত বেশি হয়েছে। এদিকে শনাক্ত মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা তেমন একটা বাড়েনি। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫২৮টি পরীক্ষাগারে ১৬ হাজার ৯৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৩ লাখ হাজার ৫০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ শনাক্তের সংখ্যা নিয়ে দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে লাখ ৪৮ হাজার ২৭ জন। আর মোট মারা গেছেন ১৩ হাজার ৪৬৬ জন কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী।

সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক শতাংশ। পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার দশমিক ৫৯ শতাংশ। সর্বশেষ বাড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো হাজার ৭২৫ জন করোনা রোগী সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে লাখ ৮০ হাজার ১৪৬।

গত কয়েকদিনের মতো গতকালও খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। গতকাল খুলনা বিভাগে মারা গেছেন ২৪ জন, তারপরই বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জন, রাজশাহী বিভাগে আটজন রংপুর বিভাগে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেট বিভাগে একজন ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে চীন সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ টিকার প্রথম ডোজ প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল ঢাকায় চারটি কেন্দ্রে দেশের অন্যান্য জেলায় একটি করে কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু করে সরকার। এই টিকার প্রথম ডোজের সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়েছে চার সপ্তাহ। এছাড়া টিকা কেন্দ্রের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা আগের মতোই প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জানা যায়, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে দেয়া হচ্ছে টিকা। টিকার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে এরই মধ্যে যেসব ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো টিকা পাননি তাদের টিকা দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা জেলায় সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ?এগুলো হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিদেশগামী স্বাস্থ্যকর্মীসহ অগ্রাধিকার পাওয়া ১০ শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিদের টিকা দেয়া হচ্ছে।

গতকাল প্রথম দিনে হাজার ৬৯১ জন পুরুষ এবং হাজার ৮২১ জন নারীকে সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। এদের কারো মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এদিকে আগামী সোমবার কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি থেকে পাওয়া ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষায় সব ভালো থাকলে এক সপ্তাহ পর নিয়ম অনুযায়ী টিকা গণপরিসরে প্রয়োগ শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে লাখ এবং ১৩ জুন লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশকে উপহার দেয় চীন। প্রথম দফায় উপহার পাওয়ার পর গত ২৫ মে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ওপর টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে সরকার। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন