বৃহস্পতিবার | জুলাই ২৯, ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

খবর

জাটকা ধরায় বছরে ক্ষতি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রতি বছর ব্যাপকভাবে নিধন হয় জাটকা। প্রশাসনের কড়া নজরদারি আর জেলেদের বিকল্প সহযোগিতা করার পরও জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। জাটকা নিধনে প্রতি বছর আর্থিক ক্ষতি হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। জাটকা নিধন একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব হলে ইলিশ উৎপাদন সাত লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: ইলিশ উৎপাদনে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন জাটকা সুরক্ষা শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা . মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

রেজাউল করিম বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফল ইলিশের সহনশীল উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে। বিএফআরআইয়ের গবেষণা থেকে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখায় ইলিশের প্রজনন সফলতা এসেছে। সর্বশেষ ২০২০ সালে ২২ দিন নিষিদ্ধকালে ইলিশের প্রজনন হার ৫১ দশমিক শতাংশ নিরূপণ করা হয়েছে। গবেষণায় নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনে মৎস্যবিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে। গবেষণা হতে হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের স্বার্থে।

সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, জাটকা সংরক্ষণে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য সরকার ভিজিএফ দিচ্ছে। পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভ্যান বিতরণসহ নানা উপকরণ দিয়ে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাটকা ধরা বেআইনি। তবু শেখ হাসিনা সরকার কেউ অনিয়মের মধ্যে থাকলেও তাকে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভালোভাবে পুনর্বাসন করতে চায়। কারণ বঙ্গবন্ধুকন্যা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সৎ, সাহসী, পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়ক। মানুষের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ শেখ হাসিনা যা নিতে পেরেছেন, তা অতীতে কেউ করেননি।

বাংলাদেশ মাৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক . ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা . মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক . মোহা. ইয়ামিন হোসেন মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক . মাহবুবুল হক। মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. ইমদাদুল হক শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মাৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক বর্তমান কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষক, মৎস্যবিজ্ঞানী এবং মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন