শনিবার | জুলাই ২৪, ২০২১ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

খবর

১৩ হাজার ছাড়াল মৃতের সংখ্যা

বণিক বার্তা অনলাইন

দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আড়াই হাজারের বেশি কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও । গত ২৪ আরো ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জানা যায়, আজ ২ হাজার ৪৫৪ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ৫৭৬ জন, যা টানা ৪১ দিনে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জনে। আর মারা গেছেন ১৩ হাজার ৩২ জন। একই সঙ্গে আজ ২ হাজার ২৮৬ জন সুস্থ হওয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জনে। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, কোনো দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা, তা রোগী শনাক্তের হার দিয়ে নির্ধারণ হয়। এতে না দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ৫১০টি পরীক্ষাগারে ১৮ হাজার ৫৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। 

আজ মারা যাওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। তাদের ৩৬ জন সরকারি ও ছয়জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের বয়স বিবেচনায় ২৪ জন ষাটোর্ধ্ব ছিলেন। বাকিদের মধ্যে ১১জন ৫১ থেকে ৬০, চারজন ৪১ থেকে ৫০ এবং দুজন করে ৩১ থেকে ৪০ ও ২১ থেকে ৩০ বছরের ছিলেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে তাদের মধ্যে আটজন  ঢাকা ও ১১ জন রাজশাহী, ১০ জন চট্টগ্রাম, সাতজন খুলনা, চারজন রংপুর , দুজন বরিশাল এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১২ হাজার ৯৮৯ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৩৮০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৬৫২ জন নারী।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এ বিধিনিষেধের মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গত মাসের মাঝামাঝিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিধিনিষেধের কঠোরতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ভারত সীমান্তবর্তী ১৫টি জেলায় রোগী দ্রুত বাড়ছে। কিছুদিন ধরে সারা দেশেও করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে।

দেশে গেল বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। চলতি বছরের ৩১ মে করোনা রোগীর সংখ্যা আট লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬২৬ জন কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হন। প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর প্রথম মৃত্যু হয়। এর মধ্যে গত ২৮ মে মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে ১২ হাজার অতিক্রম করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রমণের মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল দৈনিক হিসেবে সর্বোচ্চ ১১২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে শতাধিক দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে গত বছরের ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন