শনিবার | জুলাই ২৪, ২০২১ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

খবর

বি-ক্লাসের মর্যাদা হারাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন

সুজিত সাহা, চট্টগ্রাম ব্যুরো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে গত ২৬ মার্চ ব্যাপক ভাংচুর করে হেফাজতে ইসলাম। নাশকতায় রেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুই মাস ধরে ওই স্টেশনে সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ। স্থানীয়দের দাবির মুখে স্টেশনটির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। তবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণে পূর্বের বি-ক্লাস স্টেশনটি ডি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করবে রেলওয়ে।

হেফাজতের নাশকতাসংক্রান্ত রেলের তথ্য বলছে, ২৬ মার্চের নাশকতায় রেলের ১০টি খাতের সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৪০৩ টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের (সিএনএস) ২৫ লাখ, রেলওয়ে ট্র্যাক (পি ওয়ে) ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার, সেতু ২৫ লাখ, সংকেত বিভাগের ৪৩ লাখ ৯৫ হাজার, টেলিকমের লাখ ৯৫ হাজার, রেডিও লাখ ৮০ হাজার, ক্যারেজ (কোচ ওয়াগন) ২০ লাখ, লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) লাখ এবং অন্যান্য বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লাখ ৫০ হাজার টাকা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়েতে , বি, সি, ডি হল্ট স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখন -ক্লাস স্টেশন একটিও নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে -ক্লাস স্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বি-ক্লাসের। বি-ক্লাস স্টেশনে ট্রেন পরিচালনার প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু নাশকতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সংকেত সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখানে আপাতত বি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে চালু করা সম্ভব নয়। কারণে শুধু ডি-ক্লাস স্টপেজ দিয়েই যাত্রী ওঠানামা এবং বুকিং সহকারীর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চালু করা হবে। অর্থাৎ নাশকতার কারণে রেলওয়ে স্টেশনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বি-ক্লাস স্টেশন থেকে ডি-ক্লাস স্টেশনে রূপান্তর হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া  রেলওয়ে স্টেশন।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, নাশকতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারণে আপাতত পূর্বের ন্যায় বি-ক্লাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি স্থাপনা যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ডি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে চালু করে শুধু যাত্রী ওঠানামার কার্যক্রম চালু করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেলভবনের অনুমোদন পেলে শিগগিরই বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের স্টপেজ চালু করা হবে। অপারেশনাল অবকাঠামো সম্পূর্ণ মেরামত না হলে স্টেশনটি বি-ক্লাস হিসেবে চালু করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে দুই মাসের অধিক সময় কোনো ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ আন্দোলন করেছে। কিছুদিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলন থেকে স্টপেজ না দেয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে চলাচলরত ট্রেনে ফের ভাংচুরের হুমকি দেয়াও হয়। পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নতুন করে স্টপেজ দিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে জুন একটি প্রস্তাব রেলভবনে পাঠানো হয়েছে।

রেলের -সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি বি-ক্লাস স্টেশন হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ যাত্রী ওঠানামা করে। ২৬ মার্চের নাশকতায় স্টেশনের ভবন, প্যানেল বোর্ড, অফিস কক্ষ ভাংচুর আগুন ধরিয়ে দেয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে স্টেশন বিল্ডিংয়ের ব্যাপক ক্ষতি ছাড়াও অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্টেশনের অপারেটিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় সংস্কার কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন বিধায় ২৭ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন