শুক্রবার | জুন ১৮, ২০২১ | ৪ আষাঢ় ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

টাইলস আমদানিতে ন্যূনতম শুল্ক বাড়ানোর দাবি বিসিএমইএর

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় সিরামিক শিল্প রক্ষায় টাইলস আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক হ্রাস না করে আরো বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) পাশাপাশি দেশীয় সব ধরনের টাইলস, স্যানিটারি টেবিলওয়্যার সিরামিক পণ্যের ওপর উৎপাদন সরবরাহ পর্যায়ে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত গতকালের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএমইএর সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ২০২০-২১ ২০২১-২২ দুই অর্থবছরের বাজেটে বিদেশ থেকে আমদানি করা প্রতিবর্গ মিটার সিরামিক পণ্য টাইলসের ওপর ২৪ টাকা শুল্ক কমানো হয়েছে অন্যদিকে দেশীয় সিরামিক পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেয়া হয়েছে এর পরও ২০২১ সাল থেকে নতুন করে উৎপাদন পর্যায়ে সিরামিক পণ্যের ওপর আরো সাপ্লিমেন্টারি ১৫ শতাংশ শুল্ক নেয়া হচ্ছে ফলে দেশীয় সিরামিক পণ্য অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে

প্রস্তাবিত বাজেটের সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বিসিএমইএর সভাপতি বলেন, গত দুই বাজেটে বিদেশী সিরামিক পণ্য টাইলসের ওপর শুল্কহার ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলার করা হয়েছে আর দেশীয় উৎপাদিত সিরামিক পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেয়ার পরও আবার ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক

বিসিএমইএর সভাপতি তার দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা সরকারকে বছরে হাজার ৫০০ হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব দিয়ে থাকি আর বিদেশী সিরামিক পণ্য থেকে সরকার বছরে ১০০ কোটি টাকাও ঠিকমতো রাজস্ব পায় না

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, সরকারকে দেশীয় সিরামিক পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে অন্যথায় আমদানীকৃত সিরামিক পণ্যের ওপর শুল্ক কর না কমিয়ে তা আরো বাড়াতে হবে তা না হলে দেশীয় সিরামিক শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যাবে না অবস্থা চলতে থাকলে দেশীয় সিরামিক খাতে শিগগিরই বড় ধরনের ধস নামবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিরামিক খাতে ব্যবহূত প্রধান প্রাথমিক কাঁচামালের প্রায় ৮০ শতাংশই প্রাকৃতিক খনিজ মাটিজাতীয় পদার্থ এর মধ্যে চায়না ক্লে এবং বল ক্লে পণ্যের বডি তৈরিতে ব্যবহার্য মোট উপকরণের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত ব্যবহূত হয় এসব প্রাকৃতিক খনিজ মাটির উৎস দেশে না থাকায় আমদানি করতে হয় খনি থেকে কারখানা পর্যন্ত পরিবহনে নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া পাড়ি দিয়ে তৈরি পণ্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে স্বাভাবিকভাবেই ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত প্রসেস লস বা অবচয় হয়ে থাকে অথচ আমদানিতে অদৃশ্য পানিসহ শতভাগ পণ্যের ওপরই সব ধরনের শুল্ককর পরিশোধসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় করতে হচ্ছে যে কারণে সিরামিকের বডি তৈরির এসব কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ অবচয় ধরে আমদানি শুল্ক পরিশোধ ব্যবসাবান্ধব হবে

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৮৫ শতাংশ সিরামিক পণ্যই বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে, যা একসময় শতভাগ বিদেশ থেকে আমদানি হতো দেশে এখন সিরামিক পণ্যের বাজার প্রায় হাজার কোটি টাকার দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় বাজার টাইলসের, প্রায় সাড়ে হাজার কোটি টাকার স্যানিটারিওয়্যারের বাজার ৯০০ কোটি টাকা আর তৈজসপত্রের বাজারের আকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার খাতটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন