শুক্রবার | জুন ১৮, ২০২১ | ৪ আষাঢ় ১৪২৮

খবর

ভুয়া করোনা প্রতিবেদন

৪ পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা ভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর চারটি বেসরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া পরীক্ষাগারগুলো হলো, বিজয় সরণির সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, বাংলামোটরের স্টিমজ হেলথ কেয়ার, পুরানা পল্টনের আল জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডের মিরপুর শাখা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমুহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত ৯ জুন তারিখে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো এক নির্দেশনায় এসব কথা জানানো হয়। নির্দেশনায় পরীক্ষাগারগুলোকে নিজস্ব ভবনের বাইরে অন্য বুথ থেকে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বন্ধ করতে বলা হয়েছে।  

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নির্দেশনায় বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে-বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম করছিল এসব প্রতিষ্ঠান। 

অধিদপ্তরের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশগামী যাত্রীদের ভুয়া কোভিড-১৯ রিপোর্ট দেওয়াসহ বেশকিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং দেশের ভাবমূর্তি ভয়ংকরভাবে ক্ষুন্ন করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে-পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবগুলোর নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এছাড়া বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। একই সঙ্গে বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে, পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখসহ নমুনা সংগ্রহ ফরম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া, বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ, পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন/মোবাইল নম্বর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সাত দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কোনো বিদেশগামী যাত্রী কোভিড-১৯ পজিটিভি হলে, সে কমপক্ষে সাত দিন পর শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময় যদি নেগেটিভ সনদ পান, সেক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন। এছাড়া কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ উঠলে ল্যাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। তদন্ত করে পরবর্তী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে সে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছে কিনা। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাকে সাত দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসে আটকা পড়েন অন্তত দেড় লাখ বাংলাদেশি। তাদের ফেরার ক্ষেত্রে করোনাভাইরামুক্ত সনদ  বাধ্যতামূলক করে দেয় বিভিন্ন দেশ।

গত বছরের ২০ জুলাই ঢাকায় জেলা সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটের অস্থায়ী কভিড-১৯ আইসোলেশন সেন্টারে বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষা সংগ্রহ করে পরীক্ষার সনদ দেওয়া শুরু। পরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারকেও নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেয় সরকার। ভুয়া সনদের অভিযোগে এদের চারটির পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানালো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন