বুধবার | আগস্ট ০৪, ২০২১ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

টকিজ

দুই হাজারের মতো স্ট্যাম্প ছিল আমার সংগ্রহে

নব্বইয়ের দশকে পপধারার গান নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হন মেহরীন মাহমুদ আনারি, রাজকুমার, তুমি আছো বলে, শূন্যতাসহ একের পর এক উপহার দেন জনপ্রিয় গান নতুন ধারার গান  দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এক শ্রেণীর দর্শকের মাঝে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তার গান ভাবনা সাম্প্রতিক কাজকর্ম নিয়ে সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

মহামারীর কারণে আমরা এক অপ্রত্যাশিত সময় পার করছি কীভাবে সময় কাটছে?

আমার তো সবসময়ই সময়ের অভাব আর সবার মতো অনেক রকমের দায়িত্ব নিই আমি এছাড়া একটা মেয়ের ওপর একটু বেশিই দায়িত্ব থাকে একটা মেয়ে একাধারে স্ত্রী, মা, মেয়ে সবার প্রত্যাশা থাকে তার ওপর এজন্য দায়িত্বও বেশি এছাড়া আমি তো সিঙ্গার সময়ের সদ্ব্যবহারেই আমার ব্যস্ততা থাকে সবসময় এছাড়া এখন তো করোনা এসে আমাদের জীবনযাপন বদলে দিয়েছে আগে স্টুডিওতে গেলে মাইক্রোফোন ঠিক করা, এটাসেটা করার জন্য লোক থাকত এখন নিরাপত্তার কারণে এসব শিল্পীদেরই করতে হয় বেশির ভাগ সময় মানুষের যে কত রকমের কাজ থাকতে পারে আমাকে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না

সম্প্রতি গানসংশ্লিষ্ট কী কী করছেন?

গান সবসময়ই চলে গানকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রজেক্ট চলে জাহাঙ্গীর হায়দার ফুয়াদের কথা সুরে ফুয়াদ ইবনে রাব্বীর কম্পোজিশনে যাযাবর নামে একটা গান করেছিলাম এখন সেই গানের একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি

মহামারী কর্মভাবনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এনেছে?

হ্যাঁ, আগে আমি পরিচিত ছাড়া কাজ করতাম না ফুয়াদ, হাবীব এদের সঙ্গেই বেশির ভাগ কাজ করেছি কিন্তু এখন অপরিচিতদেরও ফেরাচ্ছি না বলা যায় হ্যাঁ ওপর আছি এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতটা পারি গান করব তবে অবশ্যই কাজগুলো ভালো হতে হবে

তার মানে আমরা নতুন গান পাচ্ছি?

হ্যাঁ, অবশ্যই তবে নতুন গানের সঙ্গে অনেক বাজেট ইনভলভ আমাদের দেশে গানে পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কম ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কাজ করা হয় না আমরা শিল্পীরা তো গান গাইতেই চাই কিন্তু প্রতিটি গানের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত মিউজিশিয়ান, স্টুডিও, এখন সময়ের চাহিদার আলোকে ভিডিও নির্মাতা... অনেক কিছুই লাগে এসব ব্যয়সাপেক্ষ আর এসব ব্যয় বহন করা একজন শিল্পীর জন্য কঠিন, মেহরীনের জন্যও কঠিন


আপনার একটা ওয়েবসাইট দেখলাম ওয়েবসাইটে আপনার গান আছে, এখান থেকে শ্রোতাদের গান পার্চেজের সুযোগ রয়েছে ভাবনাটা কবে কীভাবে মাথায় এল?

ডিজিটাল যেকোনো জিনিস শুনলেই সেটা আমার মাথায় আসে যেমন ওয়েবসাইটটা তৈরি করা কিন্তু ১৯৯৮ সালের দিকে যখন প্রথম গ্লোবাল অনলাইন বাংলাদেশে আসে তখন থেকেই মেহরীন ডটনেট আমার ওয়েবসাইট সময়ের আলোকে এটাকে আপডেট করা হয়েছে যে অ্যালবামগুলোর কপিরাইট স্বত্ব আমার, সেই অ্যালবাম, সেই গানগুলো এখানে রেখেছি তুমি আছো বলে আর বন্ধুতা অ্যালবামের গানগুলো এখানে পাওয়া যাচ্ছে এখন তো গান কিনে শোনার মানসিকতা আমাদের দেশের মানুষের হয় না তার পরও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ওয়েবসাইটটা আপডেট রাখলাম এছাড়া একটা ভাবনা ছিল, আমার গানগুলো যেন মানুষ আমার কাছ থেকে পায়

মেহরীন অফিশিয়াল নামে একটা ইউটিউব চ্যানেল দেখলাম প্লাটফর্মেও নিয়মিত হবেন মনে হচ্ছে?

আমার চ্যানেল কিন্তু নতুন না ২০১০ সালে তৈরি করা কিন্তু সময়ের অভাবে এতদিন খুব একটা গুরুত্ব দিইনি এই মহামারীতে যখন ঘরে বসলাম, তখন একটা তাগিদ হলো যে আমার সব কাজ একত্র করে রাখব গুছিয়ে রাখব কারণ মহামারী আসার ফলে মৃত্যুকে আরো কাছ থেকে দেখলাম তখন মনে হলো আমার কাজগুলো এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে একত্র করে রাখি সেই ভাবনা থেকে পুরনো কাজগুলো গোছানো শুরু করলাম পুরনো গান, পুরনো ইন্টারভিউগুলো গুছিয়ে মোটামুটি একটা জায়গায় এনেছি আমার ইচ্ছা কেউ যেন মেহরীনকে খুঁজলে, মেহরীনের পুরনো একটা গান খুঁজলে সহজেই পায়

কী কী পাওয়া যাবে মেহরীন অফিশিয়াল চ্যানেলে?

আমার চ্যানেলে ঢুকলেই প্রথমে দর্শক একটা ইনট্রো মিউজিক পাবে এরপর আমার নতুন গান, পুরনো গান, লিরিক ভিডিও, মিউজিক ভিডিও সব গান অ্যালবাম আকারে পাবে মেহরীনের ২৫ বছরের জার্নিটা এখানে থাকবে কেউ যদি জানতে চায় আমি আগে কেমন গাইতাম, দেখতে কেমন ছিলাম, সবই জানার সুযোগ থাকছে মোটকথা মেহরীনের সঙ্গে একটা সময় কাটাবে দর্শক দেখবে, শুনবে, জানবে এটাই মেহরীন অফিশিয়ালের উদ্দেশ্য

আপনার সময়ের অনেকেই সোস্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলেন কেউ কেউ আবার খুবই অ্যাক্টিভ সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি মনে করি আমার যারা ফ্যান তারা একটা রুচির মানুষ তারা আমাকে ভীষণভাবে স্টাডি করে আমি অন্য মানুষের প্রোফাইলেও যাই, দেখি কিন্তু আমার এখানে যারা কমেন্ট করে তাদের ভেতর একজন-দুজন ঢুকে পড়ে, যারা কটাক্ষ করতে চায় কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যা দেখি, আমার প্রোফাইলে যারা আসে তারা ভীষণ আমিময় তারা আমাকে ফিল করে পরখ করে এগুলো আমার ভীষণ ভালো লাগে সবই পরখ করি আমি এসব দেখে মনে হয়, জীবনটা বেকার কাটাইনি এছাড়া সময়টা তো কঠিন, এখন মানুষের সঙ্গে মিশতে ভালোও লাগছে সব মিলিয়ে আমার ফ্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে ভালো লাগছে

আপনি যে সময়ে গান শুরু করেন, তখন তো আপনার ধরনের গান কেউ করছিল না নতুন একটা ধারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে শ্রোতারা গ্রহণ করবে কিনা সেই ঝুঁকি থাকে আপনার ছিল কিনা?

আমার ধারার গান গ্রহণ না করার শতভাগ ঝুঁকি তখন ছিল কিন্তু আমি চেয়েছি আমি যেটা পছন্দ করি, যেটা ভালোবাসি সেটা নিয়েই কাজ করতে ফলে এত বড় ঝুঁকি আমি নিয়েছি কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম দেশের শ্রোতারা আমাকে সানন্দে গ্রহণ করে নিল

আপনারা যে সময়ে বেড়ে উঠেছেন সে সময়ের শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের শখ ছিল অনেকে অনেক কিছু সংগ্রহ করত আপনার এমন শখ ছিল?

ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন আমার ভীষণ শখ ছিল ডাকটিকিটের স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা খুব আনন্দ লাগত এটা সংগ্রহ করতে দুই হাজারের মতো স্ট্যাম্প ছিল আমার সংগ্রহে ওই সময়ে একটা বাচ্চার জন্য দু-আড়াই হাজার স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা সহজ কথা ছিল না আমার বড় বোনের স্ট্যাম্পবুকটা আমাকে দেয়া হয়েছিল আমি দুটা বই ভরে ফেলেছিলাম তার একটা বই হারিয়ে গেছে আরেকটা বই কয়েকদিন আগে খুঁজে পেয়েছি ভাবছি ফেসবুকে শেয়ার করব ঘটনাটা আপনি মনে করিয়ে দেয়ায় ভালো হয়েছে

প্রিয় পোশাক?

শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ

পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টা প্রাধান্য দেন?

শান্তি, আরামপ্রিয়তা সাশ্রয়ী আর একটু তো দর্শনধারীর দিকটা গুরুত্ব দিতেই হয়

প্রিয় খাবার?

আমি ভোজনরসিক খিচুড়ি খুব প্রিয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন