রবিবার | জুন ২০, ২০২১ | ৬ আষাঢ় ১৪২৮

খবর

পোশাক খাত নিয়ে সিপিডি-সজাগের সংলাপ

করপোরেট মূল্যবোধ এখনো মৌলিক পর্যায়ে পৌঁছেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট মূল্যবোধ এখনো মৌলিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ব্যবসা পরিচালনায় কিছু নির্দেশনামূলক নীতি থাকলেও তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না বলে জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার আওতায় থাকা ৮২ শতাংশ কারখানা। গতকাল এক সংলাপে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

করপোরেট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অব দ্য আরএমজি সেক্টর ইন ভিউ অব দ্য কভিড প্যানডেমিক: চ্যালেঞ্জেস ইন এনশিওরিং ওয়ার্কার্স ওয়েলবিং শীর্ষক সংলাপটি গতকাল যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সজাগ কোয়ালিশন। সেখানে সমীক্ষার ফলাফল সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সমীক্ষার ফল তার ভিত্তিতে সুপারিশ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

মূল উপস্থাপনায় বলা হয়, ১০২ জন গার্মেন্টস মালিক, ৩০১ জন পোশাক শ্রমিক ১০০ জন বেকার পোশাক শ্রমিকের ওপর সমীক্ষাটি করা হয়। করোনার প্রথম ধাক্কায় গত বছরের এপ্রিল-মে সময়ে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেসব পোশাক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। কারখানা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের মাত্র ১৫ শতাংশ কোনো না কোনো কাজ পেয়েছেন। চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে যারা নিজেদের কারখানায় কাজ ফিরে পাননি, তাদের ২০ শতাংশ দিনমজুরের কাজ করেন।

উপস্থাপনায় আরো বলা হয়, প্রায় ২৭ শতাংশ শ্রমিক নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করেছেন। দশমিক শতাংশ শ্রমিক তৈরি পোশাক খাতেই কাজ ফিরে পেয়েছেন। বাকি কয়েক শতাংশ অন্যান্য খাতে গেছেন। নতুন কাজে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। আগে যেখানে শ্রমিকরা মাসে -১২ হাজার টাকা আয় করতেন, সেখানে নতুন কাজে তারা মাসে গড়ে হাজার টাকা আয় করেন। তাছাড়া চাকরি হারানোর সময়ে অনেকেই তাদের পাওনা পাননি।

সংলাপে বলা হয়, করোনাকালে কারখানায় কাজের চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। হয়রানিও বেড়েছে অনেক। শ্রম অধিকার শিথিল করায় কারখানা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে। অথচ কারখানা কর্তৃপক্ষের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে কথাও বলতে পারেন না প্রায় ৭০ শতাংশ শ্রমিক। চাকরি হারানো কিছু শ্রমিক আবার কাজ ফিরে পেলেও তাদের বেশির ভাগেরই বেতন আগের চেয়ে কম।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আরএমজি খাত একটি বাইসাইকেলের মতো। এর মধ্যে একটি চাকা হলো মালিক-উদ্যোক্তা। আরেকটি শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাদেরও ভাগ্যের উন্নতি হওয়া দরকার। রানা প্লাজার ঘটনার পর সবাই খুব আতঙ্কে ছিল। তবে সেই ঘটনাটি একটা বিপদ থেকে সম্পদে রূপান্তর হয়েছে। কারখানাগুলো নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজ বিশ্ব বলে, রানা প্লাজার ঘটনার পর আমাদের কারখানা অনেক ভালো অবস্থায় এসেছে। এখন কারখানা তৈরির ক্ষেত্রে অনেক উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেছে। আমরা মনে করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আরএমজি এগিয়েছে।

শ্রমিকদের প্রাপ্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের পাওনা দিতে হবে। এজন্য মালিকপক্ষের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। শ্রমিকশ্রেণীর প্রাপ্য পরিশোধে মালিকরা যেন নজর দেন। শ্রমিক নেতাদেরও শুধু শ্রমিক স্বার্থ নয়, মালিকদের যৌক্তিক পরিস্থিতিও বিবেচনা করতে হবে। গত বছর বিদেশী ক্রেতারা যে পোশাক ১৫ ডলারে কিনত, সেই পোশাক এখন ১২ ডলার দিতে চাচ্ছে। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে উপযুক্ত দাম পাওয়ার বিষয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, করোনার কারণে বিদেশী ক্রেতাদের অনেকে ব্যাংকে ঋণখেলাপি হয়ে গেছেন। তাই দামও পড়ে গেছে। এছাড়া ২০১৫ সালের পর পোশাকের বৈশ্বিক বাজার বাড়েনি। করপোরেট সুশাসন জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আট বছর পর বিজিএমইএর নির্বাচন হয়েছে। এবার নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিনিধি কমিটিতে এসেছে। তাদের নিয়ে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, মজুরি কমে গেলে বিপদে পড়েন শ্রমিকরা। বাড়িওয়ালারা টাকা কম নেয় না, ওষুধের দামও কম নেয় না। তখন শ্রমিকরা খাওয়া কমিয়ে দেন। ক্রেতাদের পাশাপাশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের জবাবদিহিতামূলক মানসিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন