সোমবার | আগস্ট ০২, ২০২১ | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

আইসিএবির ওয়েবিনার

রফতানি বাড়াতে নতুন নতুন বাজার সন্ধানের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে পণ্য সেবা রফতানি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের বাজারকেন্দ্রিক। তবে এক্ষেত্রে বৈচিত্র্য নিয়ে আসা রফতানি বাড়ানোর জন্য এখন নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে। বিশেষ করে কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, লাতিন আমেরিকা আফ্রিকার দেশগুলোর নতুন বাজার ধরার চেষ্টা করতে হবে। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে গতকাল এসব কথা বলেন বক্তারা।

ডাইভারসিফিকেশন অব বাংলাদেশ এক্সপোর্ট বাসকেট: অপরচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট আজিজ এইচ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা খুবই কম। যদিও সেখানে আমাদের জন্য ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে এসএডিসিভুক্ত (সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি) দেশগুলোতে সুযোগ কাজে লাগানো যায়। এই ব্লক একক কাস্টমস ইউনিয়নের আওতায় থাকায় সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য পাঠানো যায়। যে কারণে আফ্রিকার এসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অথবা অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রফতানির পণ্য সংখ্যা বাজার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। তাই দেশের সম্ভাবনাময় ১৯টি রফতানি পণ্যকে টার্গেট করে সরকার কাজ করছে।

রফতানি পণ্যকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর একটি সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্যকে প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার বা বর্ষ পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইসিফোরজে নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে লেদার গুডস, প্লাস্টিক, ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চারটি রফতানি পণ্যের খাতকে যোগ্য করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।

প্রকল্পটির অগ্রগতির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে ভূমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে। এখানে দেশের শিক্ষিত যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ প্রদান, হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান, ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনা এবং পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে কাজ করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একটি পণ্যের কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্যাকেটিং পর্যন্ত আন্তর্জাতিকমানের করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রয়োজন।

মহামারী পূর্ববর্তী বাংলাদেশের রফতানি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মাঝেও রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চলছে। আমাদের রফতানি থেমে নেই। কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আবার রফতানি বৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এজন্য সরকার কাজ করছে। বাণিজ্য সুবিধা আদায়ের জন্য পিটিএ বা এফটিএর মতো বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভুটানের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করা হয়েছে। আরো বেশকিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা চলছে।

স্বাগত বক্তব্যে আইসিএবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান খসরু এফসিএ বলেন, বাংলাদেশের রফতানি কেবল তৈরি পোশাক খাতকেন্দ্রিক। শ্রম সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব . মো. জাফর উদ্দীন, বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক হোসেন, বিজিএমইর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শিপ বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হ্যান্ডিক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট গোলাম আহসান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর, বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মারুফ হোসেন, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সঈদ মো. সোহরাব হাসান এবং আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন