বুধবার | আগস্ট ০৪, ২০২১ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

দেশের খবর

খুলনায় নির্মাণ হচ্ছে বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, খুলনা

খুলনায় সরকারিভাবে নির্মিত হচ্ছে বিভাগীয় ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরে দেড় বছর সময় নিয়ে শুরু হওয়া হাসপাতালটির নির্মাণকাজ গত এক বছরে ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১১ সালের মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালিশপুরের জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে খুলনায় একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ২০১২ সালে হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ।

প্রথমে নগরীর বয়রার মন্নুজান স্কুলের সামনে জায়গা দেখা হলেও সর্বশেষ ডুমুরিয়ার চকমথুরাবাদ বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর মৌজার সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেডিএর ময়ূরী আবাসিক এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে একর ৮২ শতক জমি নির্ধারণ করা হয়।

জমি অধিগ্রহণ শেষে তা গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। এরপর টেন্ডারসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ।

গণপূর্ত বিভাগ-, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে খুলনা শিশু হাসপাতাল নির্মাণে এরই মধ্যে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় ধরে ১০তলা ফাউন্ডেশন ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম প্যাকেজে বেজমেন্টসহ একতলার কাজ বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনের রাস্তাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে কয়েক মাস দেরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্যাকেজের দ্বিতীয় পর্যায়ে দোতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণে আরো ২২ কোটি টাকার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে এলেই পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

গণপূর্ত বিভাগ-, খুলনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রি বলেন, প্রথম ধাপে চারতলা পর্যন্ত হাসপাতালটি ১০০ বেডের হবে। এরপর বাকি ছয়তলা নির্মাণ শেষ হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল হবে। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেডিএর নির্মিতব্য ময়ূরী আবাসিক এলাকার মধ্যবর্তী সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের পাশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন রইতি এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটি প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত একটি প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালটি নির্মাণ হলে খুলনার একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালটির ওপর চাপ কমবে। সেই সঙ্গে অঞ্চলের শিশু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ঘটবে।

বর্তমানে হাসপাতাল নির্মাণকাজ তিনি তদারকি করলেও ভবন নির্মাণ শেষ হলে এর জন্য পৃথক পরিচালক নিয়োগসহ স্বতন্ত্রভাবেই অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সিভিল সার্জন জানান।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ের শিশু হাসপাতাল নির্মাণ খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত একটি প্রতিষ্ঠান।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন