রবিবার | জুন ২০, ২০২১ | ৬ আষাঢ় ১৪২৮

খেলা

অবিশ্বাস্য চেলসিতে আরেকটি ‘ইংলিশ’ ফাইনাল

ক্রীড়া ডেস্ক

এক বছর বিরতি দিয়ে আবারো ইংল্যান্ডে ফিরছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে শিরোপা নিয়ে আসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জায়ান্ট লিভারপুল। এবার শিরোপা আসছে চেলসি কিংবা ম্যানচেস্টার সিটিতে। সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে অল-ইংলিশ ফাইনালের মঞ্চ তৈরি করেছে চেলসি। বুধবার দিবাগত রাতে দ্বিতীয় লেগে ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে ২-০ গোলে হারায় ব্লুজরা। মাদ্রিদে প্রথম লেগ ড্র হয় ১-১ গোলে। এর আগে ম্যানসিটিও একই ব্যবধানে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) হারায়। দুই লেগ মিলিয়ে সিটি জিতেছে ৪-১ গোলে। আগামী ২৯ মে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে লড়বে ইংল্যান্ডের দুই ক্লাব।

১৯৫৫ সালে যাত্রা করা ইউরোপিয়ান কাপ ও ১৯৯২ সালে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে মোট ১৩টি ইউরোপিয়ান শিরোপা এসেছে ইংল্যান্ডে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অল-ইংলিশ ফাইনাল হয়েছে দুবার, এবারেরটি তৃতীয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অল-ইংলিশ ফাইনালে টটেনহামকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ষষ্ঠ ইউরোপিয়ান মুকুট জয় করে লিভারপুল। তার আগে ২০০৮ সালে মস্কো ফাইনালে উত্তেজনাপূর্ণ ইংলিশ ফাইনালে চেলসিকে হারায় ম্যানচেস্টার  ইউনাইটেড।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের তৃতীয় ফাইনালে উঠেছে চেলসি। এর আগে ২০০৮ ও ২০১২ সালে ফাইনাল খেলে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দলটি। তাদের চেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব রয়েছে শুধু লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (উভয়ই চারটি করে)

এ নিয়ে অষ্টমবার একই দেশের দুটি ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে। তিনবার হয়েছে অল-স্প্যানিশ ফাইনাল। ২০০০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়া এবং ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ফাইনালে লড়েছে।

গতবার পিএসজিকে ফাইনালে তুলেছেন টমাস টুখেল। কিন্তু ফাইনালে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পিএসজি হেরে গেলে বরখাস্ত করা হয় টুখেলকে। জার্মান এ কোচ এবার চেলসিকে তুলে নিলেন ফাইনালে। ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে টানা দুই মৌসুমে দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ফাইনালে যাওয়া প্রথম কোচের ইতিহাস গড়লেন টুখেল।

ইস্তাম্বুল ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ম্যানসিটিকে নিয়ে টুখেল বলেন, এটা অনেক বড় অর্জন এবং এই চেতনায় আমি অত্যন্ত আনন্দিতও। পুরো কৃতিত্ব আমার দলের। আমি সব সময়ই বলি, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটিকে আমি দেখি মাপকাঠি হিসেবে এবং আমরা চাইব সিটির সঙ্গে ব্যবধান ঘুচিয়ে আনতে।

এ মাসের শেষের ম্যাচটি হবে চলতি মৌসুমে চেলসি ও সিটির চতুর্থ লড়াই। টুখেল দায়িত্ব নেয়ার আগে ফ্রাংক ল্যাম্পার্ডের সময় লিগ ম্যাচে চেলসিকে ৩-১ গোলে হারায় সিটি। যদিও ১৭ এপ্রিল এফএ কাপ সেমিফাইনালে ১-০ গোলে সিটিকে হারিয়ে চলতি মৌসুমে গার্দিওলার চার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয় চেলসি। আগামীকাল লিগ ম্যাচে আবারো মুখোমুখি হবে দল দুটি। এ ম্যাচে জিতলেই চার মৌসুমের মধ্যে তৃতীয় শিরোপা ধরা দেবে সিটির হাতে। আর টেবিলের শীর্ষ চারে থাকার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে চেলসিও জিততে মরিয়া হয়ে খেলবে।

ফুটবল বিশ্বে এখন তারুণ্যনির্ভর চেলসির বন্দনা। জানুয়ারিতে টুখেল দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে চেলসি ছিল ৯ নম্বরে। সেই চেলসি এখন টেবিলের চারে, পঞ্চম স্থানধারী ওয়েস্ট হামের চেয়ে তারা তিন পয়েন্টে এগিয়ে। এছাড়া ১৫ মে লেস্টারের সঙ্গে এফএ কাপ ফাইনাল ও ২৯ মে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলবে তারা।

চেলসির পারফরম্যান্স নিয়ে জার্মান কোচ বলেন, আমরা এখন দুটি ফাইনালে। অবিশ্বাস্য এ ক্লাবটির অংশ পেতে আমি গর্বিত। এই পারফরম্যান্স ছিল প্রাণশক্তিতে ভরা, পুরোপুরি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন আর ছিল জয়ের প্রচণ্ড ক্ষুধা। আমরা লড়াইয়ের চেতনা দেখাতে পেরেছি। আমাদের মাথা কখনই নিঁচু হয়নি, এমনকি যখন আমাদের বড় বড় সুযোগ নষ্ট হচ্ছিল তখনো না। আমরা ইতিবাচক থেকে খেলে গেছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন