শনিবার | মে ১৫, ২০২১ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শেষ পাতা

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড

পরিবারপ্রতি ৫ লাখ টাকা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন এসএস পাওয়ার প্লান্টে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল জারি করা হয়েছে।

গতকাল বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আলাদা দুটি শুনানি শেষে আদেশ দেন।

রিট আবেদনে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশী একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ মালিকানায় নির্মাণাধীন এসএস পাওয়ার প্লান্টকে কেন্দ্র করে ২০১৬ থেকে পর্যন্ত ১২ শ্রমিক পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো সুষ্ঠু বিচার না হয়ে উল্টো শ্রমিকদের বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দিয়ে বারবার তাদের পরিবার গ্রামবাসীকে হয়রানি করে আসছে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিকরা সমবেত হলে পুলিশ নিরীহ-নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনায়ও শ্রমিকদের আসামি দেখিয়েই মামলা করেছে পুলিশ।

আইনজীবীদের যুক্তিপ্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে বাঁশখালীর শ্রমিক হত্যার ঘটনায় পুলিশ জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া ওই ঘটনায় আহত ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা বা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা ওই সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

আদেশে আরো বলা হয়, বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্ট এলাকায় অবস্থানরত শ্রমিক এলাকাবাসী যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে কোটি আহত শ্রমিককে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেডআই খান পান্না, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সৈয়দা নাসরিন। বাদী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আরশাদুর রউফ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু কুমার রায় বিপুল বাগমার।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরিসহ প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে বিচারিক অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে আইন সালিশ কেন্দ্র (আসক) গত মাসে একটি রিট করে। অন্যদিকে একই ঘটনায় ২৮ এপ্রিল আরেকটি রিট করে পাঁচ সংগঠন। সংগঠনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)

প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাঁশখালীর গণ্ডামারায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজন মারা যান। আহত হন তিন পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন। তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, রমজান মাসে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা, শুক্রবার কাজের সময় ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ঘণ্টা করাসহ নানা দাবিতে সেদিন সকাল থেকে বিক্ষোভ করছিলেন নির্মাণকাজের শ্রমিকরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন কিছু শ্রমিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাল্টা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন