রবিবার | মে ০৯, ২০২১ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

খবর

পদ্মা সেতু চালুর দিনই ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ওপর রেলওয়ে ট্র্যাক (রেল লাইন) বসানোর কাজ শুরু হবে আগামী জুলাই মাসে। চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যেই পুরো সেতুর ওপর ট্র্যাক বসানোর কাজটি শেষ হয়ে যাবে। আগামী বছর যখন পদ্মা সেতু চালু হবে, তখন একই দিনে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

গতকাল মাওয়া প্রান্তে রেলসংযোগ প্রকল্পের ভায়াডাক্টের সর্বশেষ স্প্যান বসানোর কাজ পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গতকাল পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ভায়াডাক্ট--এর সেগমেন্টাল গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ভায়াডাক্ট--এর দৈর্ঘ্য হাজার ৫৮৯ দশমিক মিটার। ৬৫টি স্প্যানের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে ভায়াডাক্ট। গতকাল শেষ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে ভায়াডাক্টটি মূল সেতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার, ইন্টারন্যাশনাল কনসালট্যান্ট কনসোর্টিয়ামের চিফ কো-অর্ডিনেটর অফিসার (সিওও) মেজর জেনারেল জাহিদ এবং চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) প্রকল্প পরিচালক ওয়্যাং কুন।

সময় রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু, দেশের অনেক বড় অর্জন। এটি দেশের একটি বৃহৎ সামর্থ্য। পদ্মা সেতুতে সড়ক রেলপথ যুক্ত আছে। রেলের অংশটি ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধরা আছে। তবে আগামী বছর পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনে মাওয়া প্রান্ত থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চালু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী দ্রুত কাজ চলমান আছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, করোনা লকডাউনের মধ্যেও প্রকল্পের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার্বিক কার্যক্রম চলমান আছে। মাওয়া প্রান্তে রেলপথের ভায়াডাক্টটি (ভায়াডাক্ট-) আজ (গতকাল) মূল সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৪১.৫৯ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে সময় জানান মন্ত্রী।

সময় সিআরইসির প্রকল্প পরিচালক ওয়্যাং কুন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিআরইসি অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশার অনুমোদন পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণকাজে প্রায় দেড় বছর কালক্ষেপণ হয়। পরে করোনা মহামারী আর বন্যার কারণেও কাজ বিঘ্নিত হয়। তবে সব প্রতিকূলতা দূর করে আমরা নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। চীন ছাড়া এমন দ্রুতগতির কাজ বিশ্বের অন্য কোথাও হয় না বলেও সময় উল্লেখ করেন তিনি।

সিআরইসির প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, রেল সংযোগ প্রকল্পটির মাওয়া-ভাঙ্গা অংশটির কাজ অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে। অংশটি রেললাইন বসানোর জন্য প্রায় প্রস্তুত করে ফেলা হয়েছে। দু-এক মাসের মধ্যেই রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন