শনিবার | মে ১৫, ২০২১ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

পণ্যবাজার

ভোমরা স্থলবন্দর

১০ মাসে প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকার আদা আমদানি

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদা আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ১০ মাসে বন্দর দিয়ে ৯৪ হাজার ৩৩১ টন আদা আমদানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৭৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

আর গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

ব্যবসায়ী আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতে আদা উৎপাদনের আধিক্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যটির দাম কম থাকায় আমদানি ঊর্ধ্বমুখী।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী জানান, অন্য কোনো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছর বন্দর দিয়ে আদা আমদানি বেড়েছে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে বন্দর দিয়ে মসলাজাতীয় পণ্যটি আমদানি হয়েছিল ২৬ হাজার ৬৮৭ টন, যার মূল্য ২১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ফলে গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৬৭ হাজার ৬৪৪ টন।

ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার ঘোষ জানান, ভারতে আদা অধিক উৎপাদন হওয়ার পাশাপাশি দাম কম থাকায় বছর পণ্যটি তার প্রতিষ্ঠান বেশি পরিমাণে আমদানি করছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-১৬০ টন আদা আমদানি করা হচ্ছে। ভারতের কেরালায় আদা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০-২১ টাকা কেজি দরে। এসব আদা পরিবহন অন্যান্য খরচ দিয়ে ভোমরা বন্দর পর্যন্ত আসতে খরচ পড়ে ৩৩-৩৪ টাকা কেজি।

তিনি আরো বলেন, ভোমরা বন্দরে আদা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা কেজি দরে। ভারতে আদার দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশী মসলা আমদানিকারকরা ব্যাপক হারে পণ্যটি আমদানি করছেন। প্রতিদিন ভোমরা বন্দর দিয়ে গড়ে ৭০-৭৫ ট্রাক আদা আসছে, যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

এদিকে ভোমরা বন্দরে আদার দাম কমলেও সাতক্ষীরা জেলা শহরের হাটবাজারগুলোতে দাম তেমন কমেনি। সাতক্ষীরা সদরের সুলতানপুর বড়বাজারে মসলার আড়ত শাওন এন্টারপ্রাইজে আদা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে আদা বিক্রি হয়েছে।

ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ঢাকা চট্টগ্রামের মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভোমরা বন্দর দিয়ে আদা নিয়ে আসছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ভোমরা বন্দর ব্যবহার করলে সময় পরিবহন খরচ সাশ্রয় হয়।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িতরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, যেকোনো পণ্য আমদানি বেশি হয় মূলত ব্যবসায়ীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন