শনিবার | মে ১৫, ২০২১ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

প্রযুক্তি রূপান্তর ত্বরান্বিত করেছে মহামারী

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা

বণিক বার্তা ডেস্ক

রেস্তোরাঁর রান্নাঘর, কারখানার মেঝে কিংবা -কমার্স কেন্দ্রগুলোর চিত্র পাল্টে দিয়েছে কভিড-১৯ মহামারী। এসব কার্যক্রমে মহামারীটি রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে বাধ্য করেছে। ফলে কর্মীরা এখন ম্যানুয়াল কিংবা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ থেকে মুক্ত হয়ে উচ্চ উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। একই সময়ে ক্লাউড কম্পিউটিং ভিডিও কনফারেন্স সফটওয়্যার বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষকে ঘরে বসে কাজ করতে সক্ষম করেছে। অফিসের যাতায়াতে সময় অপচয় ব্যয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলোর মুনাফাও বেড়েছে বলে মনে করা হয়। কভিড-১৯ সংকট এভাবে প্রযুক্তি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এমনকি এটি ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরিপক্ব অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধির গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। খবর ব্লুমবার্গ।

সম্প্রতি প্রকাশিত ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবণতার সংমিশ্রণটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের উৎপাদনশীলতার গতিকে বছরে প্রায় শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে তুলবে। এটা প্রাক-মহামারীতে বৃদ্ধির গতির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের অংশীদার জান মিশচকে বলেন, প্রযুক্তির ত্বরণ এমন একটি বিষয়, যা বাস্তব দীর্ঘস্থায়ী অবদান রাখে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদরাও বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন। গত ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন, -কমার্সে স্থানান্তর, কর্মক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন এবং অলাভজনক সংস্থাগুলো সংকুচিত কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানব বিনিয়োগ মূলধন পুনরায় বরাদ্দ করার মতো বিষয়গুলো ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন উৎপাদনশীলতা কমপক্ষে শতাংশ থেকে শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে পারে।

গত ডিসেম্বরে ম্যাককিনসের জরিপে হাজার ৪০০ জন নির্বাহীর তিন-চতুর্থাংশই ২০২০-২৪ সালের মধ্যে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রত্যাশা করেছেন। যেখানে ২০১৪-১৯ সালে বিনিয়োগ বেড়েছিল ৫৫ শতাংশ।

বিশ্বজুড়ে হাজার ৬০০টিরও বেশি ব্যবসায়ীর ওপর সমীক্ষা চালিয়েছে সুইস ইঞ্জিনিয়ারিং জায়ান্ট এবিবি লিমিটেড। সমীক্ষায় প্রতি ১০ জনের আটজনই আগামী দশকে রোবোটিকস অটোমেশনের ব্যবহার বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কভিড তাদের ব্যবসায়ের জন্য গেম চেঞ্জার ছিল।

সময়কালে রোবটের চাহিদাও দ্রুতগতিতে বেড়েছে। রোবোটিক ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) উত্তর আমেরিকায় রোবট কেনার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২০ সালে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ভোক্তাপণ্য উৎপাদন, লাইফ সায়েন্স শিল্পগুলোয় এগুলোর চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এক্ষেত্রে রোবটের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলো।

বৈশ্বিক পূর্বাভাস পরিমাণগত বিশ্লেষণের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষকরা ২০১৯ সালে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, অটোমেশন রোবট চলতি দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক জিডিপিতে ট্রিলিয়ন ডলার যুক্ত করবে।

এক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে কিছু অর্থনীতি বেশি সুবিধা পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধির গতি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গড়ে শূন্য দশমিক শতাংশ থেকে বেড়ে ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে গড়ে প্রায় শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এটা মূলত কম্পিউটারাইজেশন ইন্টারনেট দ্বারা চালিত হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ কিন্ডবার্গ হ্যানলন বলেন, উন্নত অর্থনীতিগুলোর কয়েকটি খাতের উৎপাদনশীলতার উন্নতি অনেক ভালো অবস্থানে আছে। তবে এক্ষেত্রে অনেক উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতি বিভিন্ন ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। দেশগুলোয় দক্ষতার ঘাটতি, উচ্চগতির ইন্টারনেট ডিজিটাল সংযোগের মতো অবকাঠামোর অভাব এবং অর্থাভাবে সুবিধাগুলো প্রাপ্তিতে লড়াই করছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জন রেনেন বলেন, মহামারীতে অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ আরো কমে যেতে পারে। কিছু উৎপাদনশীলতা অবশ্যই বাড়বে। তবে এটি কি এত বড় হবে যে মহামারীর সব লোকসান ছাড়িয়ে যাবে? হিসাব করার সময় এখনো আসেনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন