শনিবার | মে ১৫, ২০২১ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ চাহিদা ৬৭ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস

বণিক বার্তা ডেস্ক

২০২১ সালে মধ্যপ্রাচ্যে উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা ২০১৯ সালের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীতে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজ পরিবহন খাতে এমন সংকোচন হবে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় ২০১৯ সালের পর মধ্যপ্রাচ্য উত্তর আমেরিকার উড়োজাহাজ খাত বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এক বিবৃতিতে আইএটিএ জানায়, ২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের ধারণক্ষমতা ৫৯ শতাংশ কমে যায়। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭৯০ কোটি  থেকে ৪২০ কোটি ডলারে নেমে আসে। অভ্যন্তরীণ বাজারে টিকাদান কার্যক্রমের জন্য মধ্যপ্রাচের ক্যারিয়ারগুলো কিছু মুনাফা অর্জন করতে পারবে। তবে গালফ হাব কানেকশনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বিকাশমান যেসব দেশের সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

২০২১ সালে পূর্বাভাস দেয়া ক্ষতির পরিমাণ মোট আয়ের ১৩ দশমিক শতাংশের সমান। ২০২০ সালে যার হার ছিল ২৮ দশমিক শতাংশ। এটি হবে তৃতীয় ক্ষুদ্র অঞ্চলভিত্তিক ক্ষতি। আইএটিএর আশংকা, বৈশ্বিকভাবে ২০২১ সালে উড়োজাহাজ পরিবহন খাতে হাজার ৭৭০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে। তবে ২০২০ সালে এর পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার।

আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের ধস অনেক বড় গভীর; যা অনেকের ধারণারও বাইরে। ২০২০ সালের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও উড়োজাহাজ চলাচলে যে দুর্ভোগ, তা বাড়ছেই।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে উড়োজাহাজ চলাচলের আকাশচুম্বী চাহিদা থাকলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে খাত আরো ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০২১ সালে আনুমানিক ২৪০ কোটি মানুষের যাতায়াত নিশ্চিতে উড়োজাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাজার ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি খরচ করতে হবে। ২০২১ সাল পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল খাতে উন্নতির মুখ দেখতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

চলমান মহামারী-পরবর্তী সময়ে যখন ফ্লাইট চলাচলের জন্য সীমান্তগুলো খুলে দেয়া হবে তখন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে আইএটিএ। ওয়ালশ বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে আবারো নিরাপদে উড়োজাহাজে চলাচল করতে পারে, সে ব্যাপারে অধিকাংশ দেশের সরকারি পর্যায় থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে খাতের সঙ্গে জড়িত কোটি ৮০ লাখ কর্মসংস্থান এবং জিডিপিতে এর অবদান হুমকির মুখে রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন