শুক্রবার | মে ০৭, ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

টকিজ

করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে মুক্তি পাবে ‘মুজিব আমার পিতা’

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই শেখ মুজিব আমার পিতা অবলম্বনে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র মুজিব আমার পিতা নির্মাণ শেষ হয়েছে। সম্পন্ন হয়েছে কারিগরি প্রদর্শনীও। সিনেমাটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়। চলতি মে মাসে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও করোনার প্রাদুর্ভাব পিছিয়ে দিয়েছে সিনেমাটির মুক্তি। মহামারীর প্রাদুর্ভাব কমলে যেকোনো সময় চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক সোহেল মোহাম্মদ রানা।

সোহেল রানা বণিক বার্তাকে বলেন, সিনেমাটির ব্যাপ্তি ৪৭ মিনিট। এর নির্মাণ শেষ। কারিগরি প্রদশনীও হয়ে গেছে। কারিগরি প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আইসিটির বিভিন্ন প্রজেক্ট ডিরেক্টররা। চিত্র পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জলও উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই চলচ্চিত্রটি দেখে প্রশংসা করেছেন।

জানা গেছে, দ্বিমাত্রিক (টুডি) অ্যানিমেশনের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের একদল প্রাক্তন বর্তমান শিক্ষার্থী এতে কাজ করেছেন।

অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটির পরিচালক সোহেল মোহাম্মদ রানার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা প্রোল্যান্সার স্টুডিও থেকে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এর আগে বেশকিছু টিভি নাটক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন রানা। চলচ্চিত্রের লিড ক্যারেক্টার ডিজাইন করেছেন আরাফাত করিম। লিড ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন করেছেন পল্লব কুমার মোহন্ত। শেখ হাসিনার লেখা বই থেকে চিত্রনাট্য লিখেছেন চিশতী কানন ফাহাদ ইবনে কবির।

১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীতে মুক্তি দেয়া হয় মুভির ট্রেইলার।

পরিচালক জানান, বাইগার নদীর তীরে টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মানো খোকা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখাতে পারেন, সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে ট্র্যাডিশনাল প্রক্রিয়ায় নির্মিত হচ্ছে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটি।

মুলত তার শৈশব থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত সময় থাকবে ছবিটিতে। এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদীর সঙ্গে প্রথম কথোপকথন থেকেই শুরু হয় শেখ মুজিবের রাজনৈতিক পথচলা। সেটিও দেখতে পাবেন দর্শকরা।

সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গেম অ্যান্ড অ্যাপ প্রজেক্টের আওতায় বিএমআইটি সলিউশনের সহযোগিতায় প্রোল্যান্সার স্টুডিওতে ৪০ জনেরও বেশি চারুশিল্পী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মুজিব আমার পিতা দ্বিমাত্রিক অ্যানিমেশনটি দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে।

তারা জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন আমাদের রাজনৈতিক চর্চা, সংস্কৃতি আদর্শ নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৈশোরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি, যৌবনে স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাসকশ্রেণীর চক্ষুশূল হয়ে জেল-জুলুম সহ্য করা, এর মাঝেও দলের প্রতি, দেশের নিপীড়িত মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ কর্তব্য পালনের যে তাড়না বঙ্গবন্ধু অনুভব করেছেন এবং বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন তার কথা আমরা জানতে পারি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই প্রবন্ধে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা হয়েছে ফিল্মটির স্ক্রিপ্ট, স্টোরিবোর্ড, চরিত্র, দৃশ্যপট নিয়ে। ১৯২০ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত সময় তুলে ধরতে আশ্রয় নেয়া হয়েছে তখনকার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি, বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই প্রবন্ধের। ফিল্মটি মূলত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার লেখা শেখ মুজিব আমার পিতা বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই নির্মিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি থেকেও কিছু তথ্য অবলম্বন করেছেন নির্মাতা। দৃশ্যপট তৈরি, নকশা ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে ট্র্যাডিশনাল প্রক্রিয়ায়। আশা করা যায়, মুজিব আমার পিতা অ্যানিমেশন ফিল্মটি বঙ্গবন্ধুকে তত্কালীন পরিবেশ-পরিস্থিতি জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিষয়ে পরিচালক সোহেল মোহাম্মদ রানা জানান, মুজিব আমার পিতা অ্যানিমেশন ফিল্মটি তৈরিতে নির্ভুল গবেষণা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ এখানে যেমন জড়িত আছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব, তেমনি প্রয়োজন আছে তত্কালীন দৃশ্যপট তুলে ধরা।

তিনি বলেন, অ্যানিমেশন ফিল্মে নির্মাতারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের কল্পনা বা আইডিয়াকে স্থান দেন। ইতিহাসভিত্তিক নির্মাণে সেই সুযোগটা থাকে না। এখানেই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা আমাদের মূল উৎস শেখ মুজিব আমার পিতা বইটিতেই শুধু সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং সেখানে উল্লেখিত ঘটনাবলিকে যাচাই করার জন্য অন্যান্য স্বীকৃত বইয়ের সাহায্যও নিয়েছি।

চলচ্চিত্রের কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে সোহেল মোহাম্মদ রানা বলেন, সিনেমায় শেখ মুজিবুর রহমানের নেতা হওয়ার আগের সংগ্রামকে ফোকাস করা হয়েছে। আমরা সেই সময়টা ফোকাস করতে গিয়ে দেখেছি তার নেতৃত্ব গুণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, বাংলা ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন আমাদের সামনে তরুণ নেতার গুণাগুণ তুলে ধরে। এতে আমরা নতুন করে বিস্তরভাবে বঙ্গবন্ধুকে জেনেছি। আমাদের পুরো টিম এখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

সিনেমাটি টুডি অ্যানিমেশনের জন্য নতুন ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন পরিচালক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুভির চরিত্র চিত্রায়নের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কন্যা শেখ হাসিনা অন্যান্য চরিত্রের পুরনো ছবি, পোশাক, বাচন ভঙ্গি, চলাফেরা ইত্যাদি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুরনো ভিডিও, তথ্যচিত্র, সাক্ষাত্কারের সাহায্য নেয়া হয়েছে।

নকশা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিখ্যাত কিছু অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত। ফলে ঐতিহাসিক বিবরণ থাকলেও আধুনিক অ্যানিমেশন ফিল্মের গঠন প্রক্রিয়া ফিল্মে পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন