বৃহস্পতিবার | জুলাই ২৯, ২০২১ | ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

শেয়ারবাজার

তিন প্রান্তিক

ইউনাইটেড পাওয়ারের আয় বেড়েছে তিন গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ইউপিজিডিসিএল) আয় চলতি ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। আর সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৮২ শতাংশ। মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম জামালপুরে ৪১৫ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯৯ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের প্রভাবে আয় মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত সভায় চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে ইউপিজিডিসিএলের পর্ষদ। প্রতিবেদন অনুসারে চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে হাজার ৪৮৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৮০২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৮৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৪৮২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৮৩ পয়সা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল টাকা ১৩ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইউপিজিডিসিএলের আয় হয়েছে ৮৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩১৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ১৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১০০ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে টাকা ৩৩ পয়সা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল টাকা ৬৬ পয়সা। বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ২০ পয়সা।

গত বছর অধিগ্রহণ করা বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারার কেন্দ্রটির সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট আর জামালপুরের কেন্দ্রটির সক্ষমতা ১১৫ মেগাওয়াট। কেন্দ্র দুটি অধিগ্রহণের সময় এর মোট সম্পদমূল্য ছিল হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। কেন্দ্র দুটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৫৩৫ কোটি টাকা এবং রিটেইন আর্নিংস রয়েছে ৫১৫ কোটি টাকার। ফলে কেন্দ্র দুটি অধিগ্রহণে ইউপিজিডিসিএলের প্রকৃতপক্ষে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ইউনাইটেড পাওয়ারের আয় হয়েছে হাজার কোটি টাকা। যেখানে এর আগের হিসাব বছরে আয় হয়েছিল হাজার ১২৫ কোটি টাকা। আর আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬০৮ কোটি টাকায়। যেখানে এর আগের হিসাব বছরে মুনাফা হয়েছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ১১ টাকা ২৬ পয়সা। যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ১৪ টাকা ৬২ পয়সা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৪৫ শতাংশ নগদ ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১৩০ শতাংশ নগদ ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন