শুক্রবার | মে ০৭, ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জীবনযাপনের নতুন মন্ত্র

আগেভাগে অবসরে ছুটছেন ধনী মার্কিনরা

বণিক বার্তা ডেস্ক

কভিড-১৯ মহামারীর বিভিন্ন রকমের প্রভাব বিভিন্ন খাতে পড়েছে। প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ধনী নাগরিকদের একটা অংশ ভাবছে, অনেক কাজকর্ম হয়েছে, দিনইবা বাঁচবেন! তাই এখন তারা অবসর জীবনযাপন করবেন। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ২৭ লাখ মার্কিন সময়ের আগেই অবসরে চলে যেতে চান। ২৭ লাখের বেশির ভাগই শ্বেতাঙ্গ এবং তাদের প্রচুর পরিমাণে জমানো সম্পদ আছে। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মহামারীর পর ইংরেজি কে অক্ষরের মতো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়েছে। ধনীদের ওপর মহামারীর প্রভাব অন্য রকম, বরং মহামারী তাদের দ্রুত করপোরেট জীবন ছেড়ে অবসরে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। অন্যদিকে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা চান পরবর্তী চাকরি থেকে যেন দেরি করে অবসরে যাওয়া যায়। খবর ব্লুমবার্গ।

দ্রুত অবসরে যাওয়া, তা ইচ্ছা করেই হোক আর জোর করেই পাঠানো হোক, বিষয়টি শ্রমবাজারের কিছু উৎপাদনশীল শ্রমিককে বঞ্চিত করে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও এটি অবদান রাখে। ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ দ্রুত অবসরে চলে যেতে চাইছেন। ফলে বহু প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমে যাওয়ার অভিযোগ করছে। অবশ্য আপাতত অবসরে গিয়ে পরে আবার চাকরি শুরু করবেন কিনা সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

শিল্প জায়ান্ট থ্রিএম করপোরেশনে চাকরি করতেন ক্রেইগ ডিলরেনজা (৫৮) তিনিও স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে চান। ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, কাজে একঘেয়েমি পেয়ে বসেছে তাকে। বরং এখন নিজের অন্য ইচ্ছাগুলো পূরণ করতে চান। স্যালভেশন আর্মিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে চান। গত এক বছর বাড়িতে থেকে নিজের ভেতর উপলব্ধি বুঝতে পেরেছেন তিনি।

অন্যদিকে কিছু শিক্ষক চিকিৎসকও দ্রুত অবসরে যেতে চান। সেক্ষেত্রে এটিকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, এর ফলে শিক্ষা চিকিৎসা খাত দক্ষ জনবল হারাবে। আর্থিক খাতের পরামর্শকরা বলছেন, কভিড মহামারীর ফলে মানুষ জীবন অনেক ছোট মনোভাব দেখাচ্ছে। তারা ভাবছে, ছোট জীবনের জন্য যথেষ্ট অর্থ তারা উপার্জন করে ফেলেছেন। এখন আর ছোটাছুটি করার দরকার নেই। বিশেষ করে, ধনী মার্কিনদের মধ্যে মনোভাব প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে বলে জানান নিউজার্সির আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভ্যান লিউওয়েন অ্যান্ড করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা কেনেথ ভ্যান লিউওয়েন। তিনি বলেন, তার একজন গ্রাহক ৪৮ বছর বয়সেই অবসর নিয়েছেন। এখন তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে চান। এমন দম্পতিরও দেখা মিলছে, যারা দুজনেই স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে জমানো অর্থ নিয়ে সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়ে পড়তে চান।

ফেডারেল রিজার্ভের জরিপ বলছে, ২৭ লাখ কর্মী, যাদের বয়স ৫৫ বছর, তারা অবসরে যাওয়ার জন্য সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট চেয়ে আবেদন করেছেন। এদিকে পুরনো কর্মী হারালে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন বিজনেস ভ্যালু স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টুয়ার্ট স্মিথ। তিনি বলেন, পুরনো কর্মীরা অধিক উৎপাদনশীল হয়, তারা নিয়ম সময় মেনে চলেন। নতুনদের প্রশিক্ষণ দিতেও তাদের প্রয়োজন হয়। তাই তারা যদি অবসরে চলে যান, তাহলে একটি শূন্যতা তৈরি হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন