শুক্রবার | মে ০৭, ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

শেষ পাতা

লকডাউনে শ্রমিক সংকট

এবারো ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় হাওরের কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টির কারণে বা আগাম বন্যায় যেন কৃষকের ক্ষেতের ধান নষ্ট না হয়, তাই দ্রুত তাদের ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) তবে গত বছরের মতো এবারো শ্রমিক সংকটে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের কারণে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে হাওরের সাত জেলার ধান কাটা কার্যক্রম। গতকাল পর্যন্ত হাওরের জেলাগুলোতে মাত্র ২৫ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে হাওরভুক্ত সাত জেলা অর্থাৎ কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওর হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে আবাদ হয়েছে লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। গতকাল পর্যন্ত হাওরভুক্ত সাত জেলায় লাখ ৩১ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ফলে হাওর জেলায় ধান কাটার পরিমাণ মাত্র ২৫ ভাগ। অন্যদিকে শুধু হাওরে লাখ ৮০ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে হাওরের ধান কাটার পরিমাণ ৪০ ভাগ। কিছুদিন আগে হাওরাঞ্চলে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাসের প্রভাবে এবার নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। আর সেটি হলো আগাম জাতের বিআর-২৮ ধানে চিটা ধরেছে। এছাড়া বরাবরের মতো আগাম বন্যার আশঙ্কা তো রয়েছেই।

বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ডেকার হাওরের কৃষক বোরহান উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সময় হাজার হাজার শ্রমিক (বেপারি) হাওরাঞ্চলে ধান কাটতে আসতেন, কিন্তু মহামারীর কারণে লকডাউন থাকায় এসব অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা আসতে পারছেন না। মহামারী করোনা লকডাউনের কারণে হাওরে ধান কাটার শ্রমিক খুবই কম মিলছে। সে কারণে আমরা নিজেরা ধান কাটতে শুরু করেছি। এখন আগাম বন্যার ভয়ে আছি। সময়মতো ধান তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন কৃষক।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ১৭ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সে অনুযায়ী দ্রুত ধান কেটে তুলতে পারবেন কিনা, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলার উপপরিচালক মো. ফরিদুল হাসান জানান, তাদের হিসাব অনুযায়ী এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখ হাজার শ্রমিকের হাওরে ধান কাটতে আসার কথা। যদিও লকডাউনের কারণে বিষয়টি পিছিয়ে গেছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা শ্রমিক সংকটের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের হাওরাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, পাশাপাশি সরকারিভাবে ধান কাটতে পুরনো নতুন মিলিয়ে ২৩৬টি কম্বাইন হারভেস্টার, ১৫৮টি রিপার হারভেস্টার ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাওরের ধান কাটা সম্ভব হবে। তবে জেলার দিরাই, শাল্লা জামালগঞ্জের কিছু অংশে গরম হাওয়ায় ধানের কিছুটা ক্ষতি করেছে। পর্যন্ত জেলায় শতকরা প্রায় ৩৪ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ৮৫ ভাগ ধান কাটা শেষ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।

অন্যদিকে কৃষকরা শ্রমিক সংকটের কথা বললেও কৃষিমন্ত্রী . মো. আবদুর রাজ্জাক বলছেন, মুহূর্তে হাওরে ধান কাটার জন্য শ্রমিকের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত শ্রমিক রয়েছে। গতকাল অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গত বছর হাওরের ধান কাটার জন্য যেভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, বছরও সেভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ পর্যাপ্ত ধান কাটার যন্ত্র হাওরে বছর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নানা উদ্যোগের কারণে চলতি বছর বোরো মৌসুমে প্রায় গত বছরের তুলনায় -১০ লাখ টন বেশি উৎপাদন হবে বলেও জানান তিনি।

সভা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ধান কাটায় এগিয়ে আসার বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বছর লাখ ২৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে যা হাজার ৩০ হেক্টর বেশি। অন্য বছরের চেয়ে এবার ৩০ হাজার টন ফলন বেশি পাওয়ার আশা করছে অধিদপ্তর। এছাড়া চলতি বছর সারা দেশে বোরোতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ লাখ হাজার ২০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন