শুক্রবার | মে ০৭, ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

একটি গাড়িও বিক্রি করতে পারেনি চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী গাড়ি জায়ান্ট

বণিক বার্তা ডেস্ক

রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে বাজারে আসার ঘোষণা দিয়েছিল চায়না এভারগ্রান্ড নিউ এনার্জি ভেহিকল গ্রুপ (এনইভি) লিমিটেড। কথা ছিল মিনিটে একটি গাড়ি উৎপাদনের। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর কথা। যদিও এসবের কিছুই হয়নি। কয়েক দফা সময় পিছিয়ে এখন বাজারে আসতে নতুন সময় ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। খবর ব্লুমবার্গ।

গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে না পারলেও সাংহাই ন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে স্থাপন করা হয়েছে এভারগ্রান্ড এনইভির বিলাসবহুল শোরুম। মোট নয়টি মডেলের গাড়ি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। ২০২১ সালের চায়না অটো শো-তেও সবচেয়ে বড় বুথ ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির। এর পরেও এখন পর্যন্ত একটি গাড়িও বিক্রি করতে পারেনি ব্র্যান্ডটি। কারণ বিক্রির জন্য গাড়ি উৎপাদনেই যেতে পারেনি তারা। চীনের সবচেয়ে বড় রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান এখন অন্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চাইছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিনিয়োগ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ধরা দিয়েছে। তেমনই এক ব্যবসায়ী হুই কা ইয়ান। তিনি এভারগ্রান্ডের চেয়ারম্যান চীনের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। ২০১৯ সালের মার্চে হুই শপথ করেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্মাতা হবেন।

টেসলা ইনকরপোরেশনের মডেল ওয়াই ক্রসওভার মডেলটি তখন কেবল আত্মপ্রকাশ করেছে। এরপর পরবর্তী দুই বছরে টেসলা চীনে নিজের অবস্থান দারুণভাবে শক্ত করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চীনে নিজেদের কারখানা চালু করেছে এবং মার্চে প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে। চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী নিও ইনকরপোরেশনও মাসের শুরুতে তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এক লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির মাইলফলক ছুঁয়েছে সংস্থাটি।

কিন্তু অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই হয়তো হুই তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেননি। বারবারই তার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে পড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির যত অর্থই থাকুক না কেন, গাড়ি তৈরি আসলে মুখের কথা নয়। তা সে বৈদ্যুতিক হোক আর না হোক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নিও প্রায় এক বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠছে। এখনো তাকে পুরোপুরি লাভজনক বলা যাবে না। কেবল হয়তো বিনিয়োগটুকু উঠে এসেছে।

হুই জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাবেন। যদিও গত সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। তাই ২০২২ সালের মাঝামাঝির আগে গাড়ি বিক্রি শুরু করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। আশা করা হচ্ছে, বছরে থেকে ১০ লাখ গাড়ি তারা তৈরি করবেন। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এটিই তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। এর পরেও প্রতিষ্ঠানটি ২০৩৫ সাল নাগাদ একটি পরিকল্পনা করেছে। সেটি হলো বছরে ৫০ লাখ গাড়ি উৎপাদন। তুলনা হিসেবে বলা যায়, বৈশ্বিক জায়ান্ট ফক্সওয়াগন ২০২০ সালে কেবল চীনেই সাড়ে ৩৮ লাখ গাড়ি সরবরাহ করেছে।

বারবার উৎপাদন পেছানোর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরাও। তারা মনে করেন, অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির ব্যবসা থেকে হঠাৎ করে গাড়ি নির্মাণে এগিয়ে এলে এমনটি হতে পারে। কারণ তারা যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল, তা অনেক প্রতিষ্ঠিত গাড়ি নির্মাতার জন্যও কঠিন।

সাংহাইয়ের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অটোমোবিলিটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী বিল রুশো বলেন, এটি একটি অদ্ভুত প্রতিষ্ঠান। তারা খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে, যা আসলেই ফিরে আসবে না। তাছাড়া তারা এমন একটি খাতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যেটি সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণাই নেই। আমার সন্দেহ আছে যে তাদের নিও বা জাপেংয়ের মতো কারিগরি জ্ঞান আছে কিনা। কারণ তারা এরই মধ্যে গাড়িতে লেজারভিত্তিক নেভিগেশনের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য সংযোজন করার ঘোষণা দিয়েছে।

এভারগ্রান্ড এনইভির কাজকর্ম একটু কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় সংস্থাটি কতটা অপ্রচলিত পদ্ধতিতে এগোচ্ছে। এরই মধ্যে তারা তিনিটি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলো হলো গুয়াংজু, তিয়ানজিন সাংহাই। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কোনো সাধারণ গাড়ি তৈরির কারখানাও নেই। নতুন কারখানাগুলোর ভেতরে যন্ত্রপাতি অন্যান্য সামগ্রী এখনো ঠিকমতো স্থাপন করাও হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে এভারগ্রান্ড এনইভির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের জন্য তারা যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে তারা মিনিটে একটি গাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হবে।

আগামী বছর মোট চারটি মডেল উৎপাদন করবে এভারগ্রান্ড। এগুলো হলো হেংচি , লাক্স হেংটি হেংচি ৩।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন