শুক্রবার | মে ০৭, ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

কভিড-১৯-এর প্রভাব

সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্প

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৯৬৩ সালে সূচনার পর থেকেই দেশব্যাপী আলাদা খ্যাতি তৈরি করে নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্প। কিন্তু গত বছর কভিডের কারণে চরম সংকটে পড়ে শিল্পটি। ২০২০ সালের শেষ সময়ের পর কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও চলতি বছর আবার লকডাউনের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলার পাদুকা শিল্প।

বর্তমানে জেলার জুতা কারখানাগুলো চালু থাকলেও লকডাউনের ফলে বন্ধ রয়েছে দোকান শোরুমগুলো। এছাড়া লকডাউনের ফলে জুতা তৈরির সোল, ফোম, আঠাসহ সব ধরনের উপকরণের দামও বেড়েছে। সেজন্য বেড়েছে উৎপাদন খরচও। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসতে না পারায় অবিক্রীত রয়ে যাচ্ছে উৎপাদিত জুতা। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে কারখানাগুলোর ক্ষতির পরিমাণ

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছর রোজার দুই মাস আগে থেকে শুরু করে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সময়টায় জেলার পাদুকা কারখানাগুলো বেশ কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। বছরের সময়টার অপেক্ষায় থাকেন পাদুকা মালিক কারিগররা। কিন্তু বর্তমানে করোনার প্রভাব প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির ফলে টিকে থাকতেই হিমশিম খাচ্ছে পাদুকা শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

কারখানা মালিক সিদ্দিকুর রহমান মোহাম্মদ আলী জানান, করোনার কারণে গত বছর তাদের ব্যবসা ভালো যায়নি। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন করে প্রস্তুতি নিলেও আবারো দ্বিতীয়বারের মতো লকডাউনের ফলে শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাদুকা কারিগররা জানান, গত বছরের করোনার সময় আমরা যে ধার-দেনা করে খেয়েছি, সেটাই এখনো শোধ করতে পারিনি। মনে করেছিলাম এবার কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে চললে তা পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু আবারো লকডাউনের ফলে আমরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। কারখানা মালিকরা জুতা তৈরি অনেকাংশে বন্ধ করে দিয়েছে।

জেলার পাদুকা শিল্পের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাত্র কয়েক বছর আগেও জেলায় পাঁচ শতাধিক পাদুকা কারখানা থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০টিতে। কিছু কারখানা টিকে আছে চরম সংকটের মাঝে।

জানা যায়, এসব কারখানার মধ্যে ১৬টি অটোমেটিক মেশিন এবং বাকিগুলোতে হাতেই তৈরি হচ্ছে লেডিস, জেন্টস শিশুদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। সরকারি সহায়তা না পেলে সম্ভাবনাময় শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখাই দায় হবে বলে জানান শ্রমিকরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন