রবিবার | মে ০৯, ২০২১ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

পণ্যবাজার

এলএনজি উৎপাদন

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে কাতার

বণিক বার্তা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পরিসংখ্যান-বিষয়ক সংস্থা এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অভ্যন্তরীণ চাহিদা গত বছরের তুলনায় কেমেছে। কয়লাসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্য অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির চাহিদা আরো কমবে বলে মনে করছে ইআইএ। তা সত্ত্বেও রফতানি বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন বাড়িয়ে চলছে দেশটি। তবে শীর্ষ রফতানিকারক কাতারের এলএনজির দাম অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিকল্পনাকে উচ্চাভিলাষী বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি দেশটির পরিকল্পনায় কাতারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা। খবর অয়েলপ্রাইস রয়টার্স।

ইআইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫-২০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে দশমিক শতাংশ। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা বেড়েছে তার অর্ধেক। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির জন্য সবচেয়ে ভালো দিক হলো এরই মধ্যে রফতানির মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত এলএনজির পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এলএনজির মূল্যের দিক থেকে বাজারের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে এক কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ার শীর্ষ তিন আমদানিকারক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সাধারণের তুলনায় অপেক্ষাকৃত তীব্র ঠাণ্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির এলএনজি রফতানির পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ টন। ফলে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে রফতানি বেড়েছে আড়াই গুণ। একই সময়ে কেবল এশিয়াতেই জ্বালানি পণ্যটির রফতানি গত বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। দেশটির উৎপাদক পরিশোধকদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে অন্যদিক থেকে দেশটির জন্য এটি খুব একটা খুশির কথা নয়। কারণ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদিত এলএনজির অর্ধেকেরই ক্রেতা ছিল এশিয়া। সে হিসেবে চলতি বছর এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানির গতি কিছুটা নিম্নমুখী।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের কাছে এটা নিশ্চিত যে এলএনজি রফতানিকারকদের জন্য সবচেয়ে প্রধান বাজার এশিয়া। বিদ্যুৎ অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে সম্প্রতি মহাদেশটিতে কয়লার পরিবর্তে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। সম্ভাব্য আগামী দশকের মধ্যেই পুরোপুরি গ্যাসনির্ভরতার দিকে ঝুঁকবে এশিয়ার শিল্প-কারখানাগুলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারীদের জন্য সমস্যার বিষয় হলো এলএনজির বাজারে কেবল তারাই নয়, বরং রয়েছে অন্যান্য দেশও।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এলএনজির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে কাতার। বর্তমানেও এলএনজির রফতানি বাজারে রাজত্ব করছে দেশটি। বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক  কাতারের এলএনজি উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে কাতার। এরই মধ্যে এলএনজি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ঘোষণা কাতারের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গত ফেব্রুয়ারিতেকাতার এলএনজি খাতে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে দেশটি। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে ৪০ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় দেশটিবার্ষিক এলএনজি উৎপাদন কোটি ৭০ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১১ কোটি টনে এজন্য দেশটির ব্যয় হবে হাজার ৮৫৭ কোটি ডলার। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যেই অতিরিক্ত সক্ষমতা  কাজে লাগিয়ে বাড়তি এলএনজি উৎপাদনে সক্ষম হবে কাতার

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন