শুক্রবার | মে ০৭, ২০২১ | ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

ফিচার

ব্রিটেনে রাণীর চেয়ে শেখ মোহাম্মাদের সম্পদ বেশি

বণিক বার্তা ডেস্ক

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানের এক যৌথ অনুসন্ধানে দেখা গেছে দুবাইয়ের বিতর্কিত শাসক শেখ মোহাম্মাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর। সম্পত্তির এই পরিমাণ তাকে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ জমির মালিকদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে ব্রিটেনের রাণীর ব্যক্তিগত ভূমির পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। 

শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাখতুম হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেখ মোহাম্মাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যে রয়েছে প্রাসাদ বা ম্যানসন, আস্তাবল, নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে ঘোড়ার প্রশিক্ষণ গ্যালপ ও মুরল্যান্ডের বিস্তৃত এলাকা। যার মধ্যে রয়েছে স্কটিশ পার্বত্য অঞ্চলের ২৫ হাজার হেক্টর জমি। রেজিস্ট্রি রেকর্ড ও প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখে শেখ মোহাম্মদ সংশ্লিষ্ট এসব জমির একটি মানচিত্রও তৈরি করেছে দ্য গার্ডিয়ান।  

ব্রিটেনের কী পরিমাণ জমি শেখ মোহাম্মদ কিনেছেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। কারণ এর বেশিরভাগই কেনা হয়েছে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে। যুক্তরাজ্যে প্রচুর পরিমাণে জমি এই প্রক্রিয়ায় কেনাবেচা হয়। কারণ প্রক্রিয়াটি এমন যে যখন এসব সম্পদ বিক্রি করা হয় তখন এর বিপরীতে কর দেয়া এড়ানো যায়। গোপন রাখা যায় মূল মালিকের নাম পরিচয়ও। এসব বেচাকেনা ব্যক্তিগত ও গোপনীয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শেখ মোহাম্মদের আইনজীবী। 

১৯৭৬ সালে সারে’তে সাড়ে ৭ কোটি পাউন্ড দিয়ে শেখ মোহাম্মাদ কেনেন লংক্রস এস্টেট। এ এস্টেটটি বিখ্যাত, কারণ ২১ বছর আগে এখান থেকে পালাতে চেয়েছিলেন তার মেয়ে প্রিন্সেস শামসা। গতমাসে এক রায়ে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত বলেন, ক্যামব্রিজ এলাকা থেকে প্রিন্সেস শামসাকে অপহরণ করেন খোদ শেখ মোহাম্মাদ। সেখান থেকে তাকে নিউমার্কেট এলাকার আরেকটি নিজস্ব স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে দুবাই পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে বন্দী করেই রাখা হয়েছে।

ব্রিটেনে শেখ মোহাম্মদের সবচেয়ে মূল্যবান যেসব সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে—

ডারহাম হল

শেখ মোহাম্মদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্পদ হলো ডারহাম হল। ১৭০৫ সালে বিশপ অব এলির জন্য প্রতিষ্ঠিত এই স্থাপনা ১৯২০ সালে পুনর্নির্মান করা হয়। এই ডারহাম হল থেকেই ২০০০ সালে প্রিন্সেস শামসাকে দুবাই পাঠিয়ে দেয়া হয়।

মওলটন প্যাডকস

ঐতিহাসিক এই স্থানে ঘোড়দৌড়ের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত করা হয়। দুবাই মিলেনিয়ামে অংশ নেয়ার জন্যও ঘোড়াদের এখানে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হয়। এখন এই পুরো জায়গার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার একর। এখানে আছে ঘোড়ার দৌড়ানোর জন্য বিরাট মাঠ, আস্তাবল, কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা, ঘোড়দৌড়ের জন্য নির্ধারিত মাঠ ও বিস্তৃত উঠান।

ইটন স্কয়ার

বেলগ্রেভিয়ার দ্বিতীয় শ্রেণির ভবনশ্রেণির তালিকায় থাকা স্থাপনা হলো ইটন স্কয়ার। ২০১৬ সালে লয়েডস ব্যাংক জানিয়েছিল, ব্রিটেনে সম্পত্তি কেনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল জায়গা এটি। ১৮২৫ সালে ডিউক অব ওয়েস্টমিনিস্টার এটি প্রতিষ্ঠা করেন। শেখ মোহাম্মদের পক্ষে একটি কোম্পানি এটি কেনার আগ পর্যন্ত ওয়েস্টমিনিস্টারের সম্পত্তির অংশ ছিল এটি। ২০১৩ সালে এক কোটি ৭৩ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে এটি কিনে নেন শেখ মোহাম্মদ।

লংক্রস এস্টেট

এটি সারে’র কাছে শেখ মোহাম্মদের পারিবারিক বাসস্থান। এই বাড়ির আশপাশের বিস্তৃত জমি ও অন্যান্য সম্পত্তির মালিকও তিনি। এই লংক্রস এস্টেট থেকেই ২০০০ সালে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তার মেয়ে প্রিন্সেস শামসা।

ব্রিটেনের ঘোড়দৌড়ের মূল কেন্দ্র নিউমার্কেট এলাকায় প্রচুর জমির মালিকানা শেখ মোহাম্মদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে। এমনকি সাধারণ বাড়িঘরও কিনে রেখেছেন তিনি। এটা অবশ্য স্থানীয়ভাবে সবারই জানা। ওই এলাকার অর্থনীতিতে তার অবদানের কারণে তাকে সম্মানিতও করা হয়েছে। পাশাপাশি লন্ডনের কিছু মর্যাদাপূর্ণ এলাকায়ও রয়েছে তার জমি। যেমন নাইটসব্রিজ, বেলগ্রেভিয়া ও কেনসিংটনের মতো এলাকায় তার জমি আছে, কিন্তু সেগুলোর কথা সেভাবে জানা যায়না। ২০১৮ সালে তিনি নাইটসব্রিজে কেনেন ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন রুটল্যান্ড হাউজ। বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিয়ান ক্যান্ডি সেখানে তৈরি করেছে আন্ডারগ্রাউন্ড সুইমিংপুল, অ্যাকুরিয়াম ও সিনেমা থিয়েটারও। বিলাসবহুল জীবন যাপনে যা যা প্রয়োজন তার সবই আছে সেখানে। তবে শুরুতে জানা যায়নি যে এই জমি কে কিনেছে। কারণ, অফশোর কোম্পানির নামে কেনা হয়েছিল এটি। গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে দেখা যয়, লিজিয়াম লিমিটেড নামে যে প্রতিষ্ঠান এই জমির মালিক তারাই ওয়ারেন টাওয়ারেরও মালিক। ওয়ারেট টাওয়ার আবার শেখ মোহাম্মদের মূল ব্রিটিশ সম্পত্তিগুলোর একটি। ফলে বেরিয়ে আসে রুটল্যান্ড হাউজের মালিকানার তথ্যও।

গার্ডিয়ান বলছে, ব্রিটেনে শেখ মোহাম্মদের সম্পদের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক হিসেবে তো বটেই, সম্পত্তির পরিমাণের কারণেও তিনি যুক্তরাজ্যে বিশিষ্ট হয়ে উঠছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন