বৃহস্পতিবার | এপ্রিল ২২, ২০২১ | ৯ বৈশাখ ১৪২৮

দেশের খবর

রাজশাহী বিভাগের ৪০ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাচ্ছে ১২৫ আইসিইউ

ফেরদৌস সিদ্দিকী, রাজশাহী

করোনা সংক্রমণে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় ১২৫টি আইসিইউ পাচ্ছে রাজশাহী বিভাগের ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রাজশাহী বিভাগের সাত জেলায় যাচ্ছে সুবিধা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় অন্তত একটি করে আইসিইউ বেড সংযোজন করা হবে। জেলার সদর হাসপাতালগুলোতেও যাবে আইসিইউ বেড। বর্তমানে যেসব হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে, সেগুলোতেও বাড়বে বেড সংখ্যা। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় চিকিৎসা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উদ্যোগ নেয়া বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, করোনা চিকিৎসায় খোলা রয়েছে ১০টি কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে সব মিলিয়ে সাধারণ বেডে রোগী ভর্তি করা যাবে ৫৮১ জন। এছাড়া কভিড-১৯ আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় ১০টি হাসপাতালের মাত্র চারটিতে আইসিইউ বেড। এসব হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংখ্যা ৫১টি। বর্তমানে ১২ জন রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী ভর্তি আছে সাতটিতে।

রাজশাহী বিভাগের করোনার হটস্পট হিসেবে বিবেচিত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ১৩টি, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আটটি এবং টিএমএসএম হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে শজিমেক হাসপাতালে চারজন এবং টিএমএস হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ১৩৪টি আইসিইউ বেডের চাহিদা পাঠিয়েছে বিভাগীয় সাস্থ্য দপ্তর। নতুন করে শজিমেক হাসপাতালে ২০টি এবং রামেক হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেডের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহীর নয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আধুনিক সদর হাসপাতালে ১০টি, সেখানকার চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১০টি, জেলার ১০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঁচটি, সিরাজগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ১০টি, জেলার আরো আট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে দুটি এবং জয়পুরহাট আধুনিক সদর হাসপাতালে ১০টি মনিটরসহ আইসিইউ বেডের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের আট জেলাজুড়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে হাজার ৮৪০টি। এছাড়া ৫২টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, ৫১টি ভেন্টিলেটর এবং ১০৭টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মজুদ রয়েছে। তবে মজুদ বাড়াতে ১১৫টি ভেন্টিলেটরেরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে অধিদপ্তরে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ২০টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪, নাটোরে পাঁচ, নওগাঁয় ৩০, পাবনায় পাঁচ, সিরাজগঞ্জে ১২, বগুড়ায় সাত এবং জয়পুরহাটে ১২টির জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে। বিভাগজুড়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে ১০ হাজার ২৬১টি। এর মধ্যে নয় হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা গেছে সিরাজগঞ্জের আট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য।

অন্যদিকে বিভাগজুড়ে রেমডেসিভির চাহিদা পাঠানো হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৬৩ পিস। চাওয়া হয়েছে লাখ ২৭ হাজার পিস কভারঅলসহ পিপিই, লাখ ৮২ হাজার ১০৬ পিস এন-৯৫ মাস্ক, ৩০৪ পিস হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, ৩৮৯ পিস অক্সিজেন কনসেনট্রেটর।

এদিকে করোনা সংক্রমণ শনাক্তে ব্যাপকহারে নমুনা পরীক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। এরই অংশ হিসেবে বিভাগের চারটি পিসিআর ল্যাবের জন্য লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪টি আরটি পিসিআর কিটের চাহিদা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবের জন্য ধরা হয়েছে ৭২ হাজার, রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৩০ হাজার, শজিমেক কলেজ ল্যাবে ৩৩ হাজার ৬০০ এবং সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ল্যাবের জন্য ৪০ হাজার।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুদ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী। তিনি বলেন, রামেক হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য বেড, অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, ভেন্টিলেটর অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়াতে হবে। দ্রুত রোগ নির্ণয় করার পাশাপাশি আইসিইউয়ের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। জনগণের উদাসহীনতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে মহামারী প্রতিরোধ মোকাবেলা সম্ভব বলেও মনে করেন রামেক অধ্যক্ষ।

বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, কয়েক দিন ধরেই আমরা বিভাগের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ঘুরে দেখেছি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ছয় মাসের একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এসব ইকুইপমেন্ট দ্রব্যাদির চাহিদা পাঠিয়েছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এপ্রিল চাহিদা পাঠানো হয়। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই এগুলো চলে আসবে। দ্রুততর সময়ের মধ্যে এগুলো হাসপাতালগুলোয় পৌঁছে দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন