বুধবার | এপ্রিল ২১, ২০২১ | ৮ বৈশাখ ১৪২৮

টেলিকম ও প্রযুক্তি

কর্মক্ষমতা বাড়াতে মাইক্রোসফটের নতুন উদ্যোগ

বণিক বার্তা ডেস্ক

কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ খরচ বাঁচাতে এবার নিজেদের সার্ভার পানিতে ডুবানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি স্কটিশ সাগরে তাদের পুরো একটি ডাটা সেন্টার ডুবিয়ে দিয়েছিল। খবর আইএএনএস।

মাইক্রোসফট ডাটা সেন্টারের অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান বেলাডি বলেন, মূলত এটি একটি বাথটাব। সার্ভারের র্যাকগুলো বাথটাবে শোয়ানো থাকবে। সেই সঙ্গে আপনি এতে ফুটন্ত পানির বুদবুদ দেখতে পারবেন। আপনার পানির পাত্রের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও এখানে এটা মাত্র ৫০ ডিগ্রি।

ফ্লোরোকার্বন মিশ্রিত লিকুইড সরাসরি সার্ভার কম্পোনেন্টে প্রবেশের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। এরপর লিকুইডিটি পুনরায় ঠাণ্ডা হয়ে আবারো বাথে ফিরে আসে।

বেলাডি জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সি প্লেয়াররা বিটকয়েক এবং অন্যান্য কারেন্সির জন্য লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, লিকুইড কুলিং প্রযুক্তির কর্মক্ষমতা সফলতা ডাটা সেন্টারগুলোতে পানির ব্যবহার কমিয়ে দেবে এবং এটা আমাদের জন্য খুবই দরকারি একটি বিষয়।

তিনি আরো বলেন, এটা খুবই ছোট একটা ডাটা সেন্টার, যেখানে আমরা মাত্র একটা র্যাক নিয়ে কাজ করছি। সামনে আমাদের আরো বড় পরিকল্পনা রয়েছে। যার প্রথমেই আমরা একাধিক সার্ভার র্যাককে কুলিং সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসব।

২০১৮ সালে প্রজেক্ট নাটিকের অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট স্কটল্যান্ডের অর্কনি আইল্যান্ডের ১১৭ ফুট গভীর সমুদ্রপৃষ্ঠে একটি শিপিং কনটেইনার আকৃতির ডাটা সেন্টার ডুবিয়ে দেয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ডাটা সেন্টারটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এর গায়ে শুধু শ্যাওলা সামুদ্রিক উদ্ভিদের আস্তরণ ছিল। অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠে ডাটা সেন্টার স্থাপনের সম্ভাবনার ব্যাপারেও জানানো হয়।

গবেষকরা আশা করছেন পদ্ধতির মাধ্যমে তারা সহজেই সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচের ডাটা সেন্টারগুলোর আট গুণ বেশি কার্যকারিতার কারণ খুঁজে বের করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষক দল ধারণা করছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তলদেশে নাইট্রোজেনের স্তর অক্সিজেনের তুলনায় কম ক্ষয়ের সৃষ্টি করে। এছাড়াও সেখানে মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় এর কর্মক্ষমতা আলাদা।

এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে উপকূল অঞ্চলের কাছাকাছি ডাটা সেন্টার রাখার ফলে ডাটা আদান-প্রদান কম দূরত্ব সময় লাগে। এর ফলে ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং গেম খেলার ক্ষেত্রে উচ্চ গতি পাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন