শনিবার | মে ০৮, ২০২১ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

শেষ পাতা

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

কেন্দ্রের বাইরে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হলো সরকারি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের ১৯টি পরীক্ষাকেন্দ্রের ৫৫টি ভেনুতে নেয়া হয় পরীক্ষা। সময় ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে পরে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি পরীক্ষার্থী তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের। নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

ভর্তি পরীক্ষার আগে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন ভেনু ঘুরে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা শুরুর আগে-পরে পরীক্ষার্থী অভিভাবকদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। সময় পরীক্ষার্থী অভিভাবকদের মুখে মাস্ক থাকলেও ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিল না। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী অভিভাবকদের ঠেলাঠেলি করে বের হতে দেখা গেছে। কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বললেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়নি। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করাতে দেখা যায়নি। শুধু তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষকদের হাতে এক বোতল করে স্যানিটাইজার দেয়া ছিল।

যদিও স্বাস্থ্য পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শক টিম গঠন করা হয়েছে। পরিদর্শক টিম পরীক্ষার দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবে।

চলতি বছর লাখ ২২ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। হিসেবে আসনপ্রতি ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ৪৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যা হাজার ৩৫০। এছাড়া ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যা হাজার ৩৪০।

নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা গত বছর অনুষ্ঠিত হয়নি। সংক্রমণ কমলে গত ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময়সূচি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ২১ মার্চ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা তৈমুর খান নামের এক ব্যক্তি। ২৪ মার্চ রিটটি হাইকোর্টে খারিজ করে দেয়া হয়।

প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম আহসান হাবিব। গণমাধ্যমকে তিনি

বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তাদের নির্দেশনা অনুসারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ মাস্ক পরিধান করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি নিজেও ঢাকা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা গ্রহণ করতে দেখেছেন বলে জানান।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের বেঁধে দেয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনেই নেয়া হয়েছে ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীসহ যারাই পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠানে যারা সহায়তা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানায় মন্ত্রণালয়। ধন্যবাদ জানানো হয় পরীক্ষার্থী অভিভাবকদেরও।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন