বৃহস্পতিবার | এপ্রিল ২২, ২০২১ | ৯ বৈশাখ ১৪২৮

সম্পাদকীয়

দিবস

উন্নয়নের মূলধারায় নারীর গৃহকর্মের অন্তর্ভুক্তি জরুরি

ড. তানিয়া হক

প্রথাগত কৌশলগতভাবেই কাজকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যেখানে গৃহস্থালির কাজকে কখনই কাজ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ঐতিহাসিকভাবেই ঘরের কাজকে নারীর কাজ হিসেবে ধরে নেয়া হয় এবং সমাজে ঘরের কাজের মাধ্যমে নারীর অবদান অস্বীকৃত অবমূল্যায়িত হিসেবে রয়ে যায়। করোনা মহামারীর সময়ে যখন আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ঘরের চার দেয়ালের ভেতর বন্দি, তখন নারীকেই ঘরের বর্ধিত কাজের অতিরিক্ত দায়িত্বটুকু নিজের কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত কাজের চাপ নারীর জীবন ক্ষমতায়নকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। মহামারীর আগেই নারীর ওপর ঘরের কাজের বোঝা বহুমাত্রিক প্রভাব রেখেছিল এবং মহামারীর এই ক্রান্তিলগ্নে বর্ধিত কাজের চাপ নারীকে এক কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ নারীবিষয়ক সংগঠন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এনজিওর সমন্বিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে ৯১ শতাংশের মতে, তাদের ওপর ঘরের কাজের অতিরিক্ত বোঝা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর মধ্যে ৮৯ শতাংশ নারী বিশ্রামের ন্যূনতম সময় থেকে বঞ্চিত। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী শুধু করোনাকালীন সহিংসতার অভিযোগ সংখ্যা ২৫ হাজার ৬০৭, যা আগের চেয়ে বেশি। উপরোক্ত তথ্য বর্তমান সময়ে ঘরের কাজে পুরুষের কার্যকরী অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে আরো প্রকটভাবে দৃশ্যমান করেছে। কার্যকরী প্রকল্প এবং গৃহস্থালির কাজের সুষম বণ্টন করোনার ফলে সৃষ্ট আমাদের নতুন জীবন ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে উত্কৃষ্ট করে তুলতে পারত। কিন্তু করোনাকালীন গৃহস্থালির কাজের বোঝা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ধীরে ধীরে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। সার্বিকভাবে করোনা মোকাবেলাকে প্রাধান্য দেয়া হলেও এর প্রভাবে নারীর প্রয়োজন এবং প্রতিকূলতাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রবন্ধে নারীর জীবনে ঘরের কাজের এই বহুমাত্রিক প্রভাব, কাজের অতিরিক্ত বোঝার ফলে তার জীবনে সৃষ্ট নতুন জটিলতার বিষয়গুলোয় আলোকপাত করা হয়েছে, যাতে তা জাতীয় পর্যায়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্পে নারীর গৃহস্থালির কাজের বিষয়টি আরো সচেতনভাবে চয়ন করতে সাহায্য করে। করোনা এবং সহিংসতা নারীর জীবনে দ্বৈত সংক্রামকের মতো, যেখানে একে অন্যের নিয়ামকের মতো কাজ করছে। দ্বৈত সংকট থেকে মুক্তির নিমিত্তে কেবল ত্রাণ প্রদানের বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে, তা নতুনভাবে ভাবা প্রয়োজন। সারা বিশ্বে প্রতি বছর মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়, যার পেছনে আছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক সংগ্রামী ইতিহাস।

১৮৫৭ সালে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টার অসামঞ্জস্য এবং অমানবিক কাজের পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা, যা প্রশাসন কর্তৃক কঠোরভাবে প্রতিহত করা হয়। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সম্মেলনে জার্মান সমাজতন্ত্রপন্থী রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন সংঘটিত হয়। ক্লারার প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মর্যাদা দেয়া হয়। নারী দিবস ঘোষণার পর থেকে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি সারা বিশ্বে আরো প্রকটভাবে প্রাধান্য পায়। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের বিবিধ দিক নিয়ে পর্যন্ত অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও ক্ষমতায়নে নারীর জীবনে ঘরের কাজের অতিরিক্ত বোঝার বহুমাত্রিক প্রভাব এবং এর সুষ্ঠু সমাধান আজও অধরা হয়ে আছে। গৃহস্থালির কাজ বলতে আমরা সাধারণত সেসব কাজকে বুঝি, যা পরিবার পরিচালনার জন্য অপরিহার্য কিন্তু একে অর্থনৈতিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতিদিন ১৬ দশমিক বিলিয়ন ঘণ্টা ঘরের কাজে ব্যয় হয়, যার চার ভাগের তিন ভাগই নারী সম্পাদন করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যাকশন এইডের একটি গবেষণায় দেখা যায় যে নারী তার সারা দিনের ১৫ দশমিক কর্মঘণ্টার মধ্যে দশমিক ঘণ্টা ব্যয় করেন ঘরের কাজে, যা তার মোট কর্মঘণ্টার ৪১ দশমিক শতাংশ। মহামারীর প্রকোপে ঘরের কাজের ভার আরো অসমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থার মতে, করোনা থেকে প্রতিরক্ষামূলক বিভিন্ন কাজ যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ইত্যাদি ঘরের কাজের চাপ বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিলেও পরিবারে বৃদ্ধিরত কাজের পুনর্বণ্টনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসেনি বললেই চলে। করোনাকালীন এই সময়ে নারীর ঘরের কাজের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আগের চেয়ে বেশি সময় গৃহে অবস্থান করছেন। উপরন্তু, প্রচলিত সামাজিক প্রথা অনুযায়ী পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ অসুস্থ সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব বরাবরই নারীর ওপরে অর্পিত থাকে এবং করোনাকালীন তুলনামূলকভাবে বয়স্করাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যা নারীর অতিরিক্ত কাজের বোঝার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। আবার রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গৃহকর্মীদের থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতার সুযোগটিও কমে গেছে। সুতরাং কর্মজীবী গৃহিণী উভয়েরই গৃহকর্মীর কাজের অংশটুকুও নিজেকেই করতে হচ্ছে। তার ওপর যদি নারী নিজেই করোনা আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে তার জীবনে প্রতিকূলতার এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয় উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়। নারীর ঘরের কাজের বোঝা তথা তার সার্বিক উন্নয়কে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে, যা তার জীবনে সৃষ্টি করে সময় দারিদ্র্য। আবার নারীর সার্বিক ভালো থাকা এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে যে তার বিশ্রামের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক, আজও তা উন্নয়ন আলোচনা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপে নিবদ্ধ করা হয়নি। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রকল্পে তার মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম এবং ন্যূনতম বিশ্রামের বিষয়টি যে তার সার্বিক উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায়, সেটিকে আলোচনার অন্তরালে রেখে দেয়া হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে উইমেন ইন ডেভেলপমেন্ট বা ওয়েল ফেয়ার কৌশল অবলম্বন করা হয়, যা নারীকে অন্তর্ভুক্তিকরণের উদ্যোগ নিলেও কাঠামোগত পরিবর্তনকে এবং পরিবর্তনের জন্য নারীর প্রয়োজনীয়তাকে (স্ট্র্যাটেজিক নিড) প্রাধান্য দিতে ব্যর্থ। আবার নারীর দ্বিগুণ, তিন গুণ দায়িত্বকেও তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি। যেহেতু নারীর গৃহস্থালির কাজের বোঝার বিষয়টিকে সবসময় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, করোনাকালীনও দৃশ্য ব্যতিক্রম নয়। একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্যোগ বিশেষ করে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত উদ্যোগ করোনার প্রতিকূল অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছে, অন্যদিকে করোনার ফলে নারীর জীবনে অতিরিক্ত বোঝা এবং -সম্পর্কিত জটিলতাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতি, ব্যক্তি, পরিবার তথা সমাজের সুষ্ঠু পরিচালনার পেছনে গৃহস্থালির কাজের অবদান অপরিসীম, যদিও এর কোনো যাথাযথ স্বীকৃতি নেই। একজন ব্যক্তি ঘরের বিভিন্ন কাজ যেমন রান্না করা, ধোয়া-মোছা করা, বাড়ির ছোট বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখাশোনা ইত্যাদি কাজে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় ব্যয় করে, যাতে তার পরিবার সমাজ যথাযথভাবে পরিচালিত হয় এবং সবার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প থেকেই ঘরের কাজের মূল্যায়নের বিষয়টি অজুহাতে বাদ দেয়া হয় যে বাজার অর্থনীতির অন্য কাজের মতো সহজেই কাজগুলোকে মূল্যায়ন করা যায় না এবং গণনা প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় ব্যক্তির সময়ের মূল্যায়ন এবং তার সার্বিক উন্নয়নের জায়গাটিকে কার্যকরভাবে আলোকপাত করা হয় না, যা পরবর্তী সময় বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জেন্ডার বৈষম্যের সৃষ্টি। জেন্ডার বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের মধ্যে অসমতা নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থানের পথকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আর্থসামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে এবং গৃহের কাজে নারী তার মোট সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যয় করে। অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে ঘরের কাজকে চিরাচরিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীর কাজ বা মেয়েলি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তা এক ধরনের সামাজিক প্রথা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। প্রথাই নারীর কাঁধের ওপর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ঘরের কাজের দ্বিগুণ বোঝাকে চাপিয়ে দেয়। বাংলাদেশে শ্রম শ্রমিকের ধারণায় কোনটি নারীর কাজ কোনটি পুরুষের কাজ, তার মধ্যে একটি দৃঢ় বিভাজনমূলক আচরণ পরিলক্ষিত হয়। কেবল পুরুষই নয়, নারীও অনেক ক্ষেত্রে ধরনের ধারণা পোষণ করেন। এখানে ঘরের কাজকে মেয়েলি কাজ বা নারীর কাজের সমার্থক হিসেবে ধরা হয়। গৃহের কাজ শিশুর দেখাশোনায় যে সময় ব্যয় হয়, তাকে কোনোভাবেই মূল্যায়ন করা হয় না, ফলে ঘরের কাজের সংজ্ঞা এবং প্রয়োজনীয়তা আমাদের কাছে সঠিকভাবে বোধগম্য হয়ে ওঠে না। নারী পুরুষের মাঝে ঘরের কাজের অসম বণ্টন, নারীর অধিকার এবং নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। আবার ঘরের কাজের অতিরিক্ত বোঝার ফলে নারীর জীবনে মারাত্মক সময় দারিদ্র্য দেখা যায়, যা শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের পথে অন্যতম অন্তরায়। পুরুষ আয় করবেন এবং নারী ঘরে থাকবেন, কর্মবণ্টনের দ্বিপক্ষীয়তা মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়েরই কর্মক্ষমতা, অস্তিত্ব এবং ইচ্ছার জায়গাটিকে সংকীর্ণ করে দেয়। ঘরের কাজ মানে স্বভাবতই নারীর কাজ ধারণা থেকে বের হয়ে না এলে জেন্ডার সমতার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো কখনই সম্ভবপর হবে না। গৃহস্থালির কাজকে অবশ্যই কাজ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত, কারণ কাজের পেছনে সময়, শ্রম শক্তি সবই আবশ্যকতা রয়েছে। অমূল্যায়িত ঘরের কাজ কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয় এবং এর সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কের জটিল বৈশিষ্ট্যগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। উপরন্তু, গৃহস্থালির কাজকে রাষ্ট্রের কাজ হিসেবে মূল্যায়ন না করে কেবল ঘরের কাজ হিসেবেই সম্বোধন করা হয়, যা অবমূল্যায়নের পথকে আরো মসৃণ করে। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রবক্তারা বরাবরই পরিবার তথা ঘরের সঙ্গে রাষ্ট্রের এই নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ককে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সুতরাং সমাধানের ক্ষেত্রে বলা যায় যে কাজ এবং কাজের মূল্যায়নের চিরাচরিত সংজ্ঞাকে নতুনভাবে বিবেচনায় আনতে হবে। জিডিপি শুধু উৎপাদিত পণ্য এবং অর্থনৈতিক সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করে, মানুষের সার্বিক উন্নয়নের প্রতিফলন ব্যবস্থায় ঘটে না। আবার শুধু পারিশ্রমিক প্রদানের ব্যবস্থার মাধ্যমেও গৃহের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান অসম্ভব। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন এবং সৃজনশীল চিন্তার প্রতিফলন প্রয়োজন, যেখানে সংখ্যাগত এবং গুণগত পরিবর্তনকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে। মানবাধিকার রক্ষা, জেন্ডার সমতা এবং মানবনিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা শুধু বর্তমানের সংকট মোকাবেলার জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অপরিহার্য উপাদান তা করোনা আবারো আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। পুনরায় মনে রাখতে হবে যে সব নারী এক নয়, তাদের বাস্তবতা এবং প্রয়োজনীয়তার বৈচিত্র্যময়তাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং ওয়ান সাইজ ফিটস অল কৌশল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণী, বিভিন্ন পেশার এবং বিভিন্ন বাস্তবতার নারীদের বৈচিত্র্যময়তাকে প্রাধান্য না দিলে আমরা করোনাকালীন নারীদের জন্য প্রকৃতপক্ষে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারব না। স্বীকৃতির জায়গাকে উপস্থাপনের পাশাপাশি নারী-পুরুষের মাঝে ঘরের কাজের সুষম বণ্টনের বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারীর প্রতীকী ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটেনি। তাই উন্নয়নের মূলধারায় নারীর গৃহস্থালির কাজকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত এবং উপস্থাপন করতে হবে।

 

. তানিয়া হক: অধ্যাপক, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন