বৃহস্পতিবার | এপ্রিল ২২, ২০২১ | ৯ বৈশাখ ১৪২৮

শেষ পাতা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ঐতিহাসিক মার্চ। চলতি মাস স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তির। তেমনি মার্চ ভাষণেরও ৫০ বছর পূর্তি আজ। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি স্বর্ণাক্ষরে উজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের দিনে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের (তত্কালীন রেসকোর্স ময়দান) জনসভায় লাখো জনতার সামনে সেই ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন দৃপ্তকণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

এমন এক সময় ঘোষণা এসেছিল, যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর মার্চের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। স্বাধীনতার যে ডাক সেদিন বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন, তা বিদ্যুত্গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালের সেদিন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগান ছিল ময়দানজুড়ে পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। ১৯ মিনিটের সেই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধে দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও দেশবাসীর কাছে তা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

একাত্তরের মার্চ বঙ্গবন্ধুর উদ্দীপ্ত ঘোষণার পরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে।

ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয়, তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের শুভক্ষণে ঐতিহাসিক মার্চ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জাতীয়ভাবে দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন