বৃহস্পতিবার | এপ্রিল ২২, ২০২১ | ৯ বৈশাখ ১৪২৮

দেশের খবর

সাতক্ষীরায় খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়র খাল পুনর্খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খালের পানি সম্পূর্ণ শুকিয়ে খনন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এছাড়া মেয়াদ পার হওয়ার নয় মাসেও শেষ হয়নি খননকাজ। দায়সারাভাবে কাদামাটি তুলে ট্রাক্টরে পরিবহন করায় নষ্ট হচ্ছে শহরের রাস্তা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন খালের পানি না শুকিয়ে যেভাবে খনন করছে, তা কোনো কাজে আসবে না বলে আশঙ্কা সাতক্ষীরা শহরবাসীর।

এদিকে খালখননের নামে পৌরসভার রাস্তা নষ্ট শহর নোংরা করার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে উকিল নোটিস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা প্রাণসায়র খাল আট কিলোমিটার পুনর্খননের কাজ গত বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের মেয়াদ বাড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করেছে।

সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম জানান, প্রাণসায়র খাল পুনর্খনন প্রকল্পটিতে শুরু থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতি করা হচ্ছে। এজন্য সাতক্ষীরা শহরবাসী প্রতিবাদ করে মানববন্ধন বিক্ষোভ করেছেন অনেকবার, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, খালের তলদেশ না শুকিয়ে ঠিকাদার এক্সক্যাভেটর দিয়ে খালের কাদামাটি তুলে দায়সারাভাবে পাশেই রাখছে। তাছাড়া কাদামাটি পরিবহন করতে শহরের পরিবেশও নোংরা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পকাজের তদারকির দায়িত্ব যাদের, রহস্যজনক কারণে তারা নীরব রয়েছেন। ফলে ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছামতো প্রকল্পের কাজ করছেন।

আদি যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ইলাহী জানান, যেভাবে প্রাণসায়র খাল পুনর্খনন করা হচ্ছে, তা সাতক্ষীরাবাসীর কোনো কাজে আসবে না। তিনি আরো বলেন, প্রাণসায়র খাল যদি ইছামতী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত না করা যায়, তাহলে যতবারই খনন করা হোক না কেন, লাভ হবে না।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড--এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকার ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড--এর অধীনে কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা শহরের প্রাণসায়র খালের আট কিলোমিটার পুনর্খননের জন্য ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যান্ড টেকনিককে (জেডি) কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজের মেয়াদ দেয়া হয় ২০২০ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত।

ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি জানান, সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়র খাল খননের নামে পৌরসভার রাস্তা নষ্ট শহর নোংরা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে উকিল নোটিস দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি আরো জানান, খালখননের পচা নোংরা কাদামাটি ইটভাটার ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করে পৌরসভার রাস্তাঘাট নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। এতে শহরের পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড--এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের প্রাণসায়র খাল পুনর্খনন শিডিউল অনুযায়ী শতভাগ হচ্ছে না স্বীকার করে বণিক বার্তাকে জানান, খালটি শহরে হওয়ায় খনন করতে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, খালের দুপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে এক্সক্যাভেটর চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া খননকৃত মাটি পরিবহন করতেও মুশকিলে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, খালের সঙ্গে পৌরসভার ড্রেন সংযুক্ত থাকায় পানি সম্পূর্ণ শুকানো যাচ্ছে না। স্যালো মেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে নেয়ার পর পুনরায় ড্রেনের পানি খালে এসে পড়ছে।

ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যান্ড টেকনিকের স্বত্বাধিকারী জেডএ মাহমুদ ডন খাল পুনর্খননে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই খাল পুনর্খনন করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। খালের মধ্যে একটি মার্কেট দুটি ধর্মীয় স্থাপনা থাকায় খননকাজ শেষ করতে সময় বেশি লাগছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন