শুক্রবার | এপ্রিল ২৩, ২০২১ | ১০ বৈশাখ ১৪২৮

দেশের খবর

একটি মৃতসহ উদ্ধার হল চুরি যাওয়া ২ নবজাতক, চক্রের ৬ সদস্য আটক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারের হাসপাতাল এবং উল্লাপাড়ায় হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার সাখওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া দুই নবজাতক উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এদের মধ্যে একটি নবজাতক মারা গেছে।

গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া এলাকায়  অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। একই সাথে নবজাতক চুরি চক্রের প্রধান হোতাসহ ৬ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চোর চক্রের অবস্থান নির্ণয় করে সেখান থেকে দুটি শিশুই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে  সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারের হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এ সময় নবজাতক চুরি চক্রের মূল হোতা এক নারীসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, শনিবার বিকেলে সাখওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে বিকেল সোয়া ৩টায় সদ্যজাত এক নবজাতক চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ এই চক্রটি। চুরি যাওয়ার সাথে সাথেই হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে মানুষকে বিষয়টি অবগত করতে এলাকায় মাইক দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। একই সাথে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সময় অনুযায়ী অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করে অবশেষে চোর চক্রকে হাতে নাতে আটক করা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগ থেকে নবজাতকটি চুরি হয়ে যায়। শিশুটি জেলার উল্লাপাড়া ভাদালিয়া কান্দি গ্রামের চয়ন ইসলাম ও মঞ্জুয়ারা খাতুন দম্পতির সন্তান। নবজাতকটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই দিন দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগে অপরিচিত এক নারীর কাছে নবজাতকটিকে রেখে তার মা কাপড় শুকাতে হাসপাতালের ছাদে গেলে ওই নারী নবজাতকটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। নবজাতকটি নিওনেটাল সেপসিস রোগে ভুগছিল। এই শিশুটিকে পুলিশ মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

অপর দিকে প্রসববেদনা দেখা দিলে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের সবিতা খাতুন শুক্রবার বিকেলে  সাখোয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে অস্ত্রপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। এরপর শিশুর মাকে পাশের (পোস্ট অপারেটিভ) কক্ষে রেখে সুস্থ শিশুটিকে তার নানীর কোলে দেওয়া হয়। নানী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতালটির একটি কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় এক নারী এসে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং আদর করে তার বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন। একপর্যায়ে বেলা ৩টার দিকে শিশুটির নানীকে তার নিজের মেয়েটি কেমন আছে, সেটি দেখে আসার কথা বলেন ওই নারী। বিশ্বাস করে শিশুটিকে ওই নারীর কোলে রেখে তিনি পাশের কক্ষে যেতেই ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। শিশুটি জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগা গ্রামের মাজেম মোল্লা (৩৫) ও সবিতা খাতুন (৩০) দম্পতির সন্তান। তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন