মঙ্গলবার | এপ্রিল ২০, ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

পণ্যবাজার

শেলের পূর্বাভাস

২০৪০ নাগাদ দ্বিগুণ হবে বৈশ্বিক এলএনজির চাহিদা

বণিক বার্তা ডেস্ক

দুই দশকের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বাড়তে পারে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক বার্ষিক পূর্বাভাসে এমনটা জানায় রয়্যাল ডাচ শেল। নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত জ্বালানি কোম্পানিটি বলছে, ২০৪০ সালের মধ্যে এলএনজির চাহিদা ৭০ কোটি টনে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে এশিয়া। খবর রয়টার্স প্লাটস।

শেল বলছে, গত বছর নভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেয়া লকডাউন এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও এলএনজির চাহিদা ছিল ৩৬ কোটি টন। ২০১৯ সালে যেখানে এলএনজির চাহিদা ছিল ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টন। মহামারীর ধাক্কায় ২০২০-এর শুরুতে এলএনজির দাম রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছলেও ছয় বছরের সর্বোচ্চ দাম নিয়ে বছর শেষ হয়েছে। জোগানস্বল্পতায় এশিয়ার বাজারে চাহিদা বৃদ্ধিতে এলএনজির দাম বেড়েছে বলে দাবি শেলের।

মার্টেন ওয়েটসেলার নামে শেলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মহামারীর মধ্যে সহজলভ্য জ্বালানি হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছিল এলএনজি। দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল শিল্পটি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসমহামারীর শুরুর দিনগুলোতে এশিয়ার বেশির ভাগ অংশেই এলএনজির চাহিদা কমেছিল। কিন্তু বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চাহিদা ফের ঘুরে দাঁড়ায়।

অভ্যন্তরীণ গ্যাস উত্তোলন হ্রাসের ফলে ২০৪০ সাল নাগাদ প্রায় ৭৫ শতাংশ এলএনজি চাহিদা থাকবে এশিয়ায়। মহামারীর কারণে শুরুতে ধাক্কা সত্ত্বেও এলএনজি বাজার চাঙ্গায় ভূমিকা রেখেছে চীন ভারতের বাজার। ২০২০ সালে চীনের এলএনজি আমদানি ৭০ লাখ টন বেড়ে দাঁড়িয়েছে কোটি ৭০ লাখ টন, যা বছরওয়ারি বেড়েছে ১১ শতাংশ। ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়ায় চীনের বাজারে এলএনজির চাহিদা বাড়বে। গত বছর ভারতের এলএনজি আমদানিও ১১ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উত্তোলন চাঙ্গায় তারা সাশ্রয়ী এলএনজির সুবিধা গ্রহণ করেছে।

শেল তাদের পূর্বাভাসে আরো জানায়, চলতি বছরেও এশিয়ার এলএনজি চাহিদা চাঙ্গা থাকবে। চলতি বছর অঞ্চলে এলএনজির চাহিদা প্রায় কোটি ৯০ লাখ টন বাড়তে পারে।

এর বাইরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে এলএনজির চাহিদায় তেমন পরিবর্তন দেখা যাবে না বলে পূর্বাভাস শেলের। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য আফ্রিকায় সীমিত প্রবৃদ্ধি বা ভোগ কমায় এলএনজির চাহিদা কম থাকবে।

চলতি দশকের মাঝামাঝিতে চাহিদা জোগানের মধ্যে ফারাক নজরে আসবে বলে পূর্বাভাস শেলের। মহামারীর কারণে গত বছর অনেকগুলো নতুন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালে নতুন এলএনজি উত্তোলন সক্ষমতা বেড়েছে মাত্র ৩০ লাখ টন, যেখানে ছয় কোটি টন এলএনজি উত্তোলন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। মেক্সিকোয় সেম্পারা এনার্জির এনার্জিয়া কোস্টা আজুল রফতানি প্রকল্প নামে গত বছর কেবল একটি এলএনজি প্রকল্প চালু হয়েছিল।

শেল বলছে, গত বছর চীনের পরিবহন খাতে প্রায় কোটি ৩০ লাখ টন এলএনজি ব্যবহূত হয়েছে, ২০১৮ সালের তুলনায় তা দ্বিগুণ বেড়েছে। আগামী বছরগুলোতে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ইন্দোনেশিয়ার মতো শিল্পনির্ভর অর্থনীতিগুলোতে এলএনজির চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়বে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন