মঙ্গলবার | এপ্রিল ২০, ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

পণ্যবাজার

নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে সুতার দাম চড়া

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের সুতার বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে সুতা তৈরির কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের বাজারে তৈরি সুতার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা পড়েছেন বিপাকে। গার্মেন্টস মালিকরা বলছেন, সুতার মূল্যবৃদ্ধিতে অনেক গার্মেন্টস কারখানা নতুন অর্ডার নিতে পারছে না। কারণ সুতার দাম বাড়লেও ক্রেতারা (বায়ার) তাদের নতুন দেয়া অর্ডারের দাম বাড়াচ্ছে না, যে কারণে ফিনিশড গুডস তৈরি করতে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এসব কারণে অনেক কারখানা বায়ারদের নতুন অর্ডার ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আবার যেসব গার্মেন্টস কারখানা এক বা দুই মাস আগে অর্ডার নিয়েছিল তাদের এখন অনেকটা লোকসান দিয়েই পণ্য তৈরি করে চালান করতে হচ্ছে। এদিকে সুতার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁতিরা। চড়া দামে সুতা কিনে কাপড় তৈরি করে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক তাঁতি তাদের তাঁত বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

৩০, ৩২ ৩৪ কাউন্টের রফতানি মানের সুতা বাজারে পাউন্ডপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ১৩২-১৪০ টাকায়। একই কাউন্টের সুতা এক-দেড় মাস আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১১০-১১২ টাকায়। সে হিসাবে বাজারে সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি বেড়েছে ২২-২৮ টাকা, যা খুবই অস্বাভাবিক। ৪০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ১৪৫-১৬০ টাকায়, যা ৩০-৩৫ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১৩৫-১৪৭ টাকায়। সে হিসাবে পাউন্ডপ্রতি ৪০ কাউন্টের সুতা দাম বেড়েছে ১০-১৩ টাকা।

বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা জানান, সুতার বাজার বেশ কয়েকদিন ধরে অস্থির হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সব কাউন্টের সুতার দাম প্রকারভেদে ১৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যেভাবে দাম বেড়েছে তা খুবই অস্বাভাবিক। কারণে টানবাজারের সুতার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে আছেন। কেউ সুতা কিনে গুদামজাত করার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। 

এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে সুতার দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছেন আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ন্ত্রক বন্ড ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এভাবে সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁতিরা। যেভাবে নতুন অর্ডার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে তাতে সুতার বাজারে আবার ধস নামার শঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ নিট ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রফতানি মানের ২৪, ২৬, ২৮, ৩২, ৩৪ কাউন্টের সুতার দাম দ্বিগুণ-তিন গুণ বেড়েছে। সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে যে অর্ডার পেয়েছি সেই অর্ডারের পণ্য বায়ারকে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার কাঁচামাল তুলা, রঙ, ডাইস-কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে ক্রেতারা ফিনিশড গুডসের দাম বাড়াননি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুহূর্তে তাদের পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ক্রেতারা বর্তমানে যে অর্ডার নিয়ে আসছেন রেটে কাজ করলে আমাদের প্রতিটি ফিনিশড গুডস তৈরি করতে গিয়ে ১৭-২০ সেন্ট করে লোকসান হবে। কারণে অনেক গার্মেন্টস কারখানা তাদের ক্রেতাদের অর্ডার ফিরিয়ে দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন