মঙ্গলবার | এপ্রিল ২০, ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

টেলিকম ও প্রযুক্তি

সোস্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে আইন করছে ভারত

বণিক বার্তা ডেস্ক

ফেসবুক টুইটারের মতো সোস্যাল মিডিয়ার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়ন করছে ভারতের সরকার। গত বৃহস্পতিবার উন্মোচিত এমন একটি নতুন আইন আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর হবে। দেশটির নতুন সোস্যাল মিডিয়া আইন স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হবে মনে করছেন স্বাধীন ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা। যে কারণে আইনটি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সতর্কতা বার্তা দেয়া হয়েছে। খবর ইটি টেলিকম।

ভারত সরকারের উন্মোচিত খসড়া আইনটি কার্যকর হলে সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম, অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিসেস এবং ডিজিটাল সংবাদ সেবাদাতারা অভিযোগ দায়েরের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্লাটফর্ম থেকে বিতর্কিত কনটেন্ট সরাতে বাধ্য হবে। এছাড়া ভারতের সরকার কিংবা আদালত চাইলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিকর টুইট মেসেজের প্রকৃত উৎস প্রকাশ এবং অন্যান্য তথ্যাদি হস্তান্তরে বাধ্য থাকবে।

ভারতের সরকার টানা কয়েক বছর ধরে সোস্যাল মিডিয়া মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ, গুজব, পর্নোগ্রাফি, সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোতে লাগাম টানতে চাইছে। নিয়ে চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু সোস্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। এবার খসড়া আইনটি কার্যকরের মাধ্যমে হয়তো তার শেষ হতে চলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ভারতের নতুন সোস্যাল মিডিয়া আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ওই সময় আইনটি বিষয়ে অনলাইনে সাধারণ মানুষের মতামত চায় দেশটির সরকার। তবে ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সোস্যাল মিডিয়া আইনের মাধ্যমে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশ লঙ্ঘন করা হবে। বৈশ্বিক সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক, -কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্ট গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তালিকায় রয়েছে। সেই আপত্তিতে কান না দিয়ে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন আইন কার্যকর হতে পারে বলে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

ভারতের নতুন সোস্যাল মিডিয়া আইনে কী রয়েছে? দুই বছর আগে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছিল, ইউটিউব, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত টিকটক অ্যাপে কোনো পোস্ট সম্পর্কে ভারতীয় গোয়েন্দারা তথ্য চাইলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার উৎস, অর্থাৎ প্রথম কে পোস্ট বা শেয়ার করেছিল, সেটা জানাতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারকারীর অন্তত ১৮০ দিন কিংবা মাসের সব তথ্য রাখতে হবে। যাতে তদন্তের প্রয়োজনে সেগুলো উদ্ধার করা যায়। পাশাপাশি একজন ডেডিকেটেড কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, যিনি ব্যবহারকারীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন এবং ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করবেন। এখন সে আইনই কার্যকর করতে চলেছে ভারত সরকার। আইনটিতে তেমন কোনো পরিবর্তন করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

ক্রস-প্লাটফর্ম মেসেজিং ভয়েস ওভার আইপি সেবা হোয়াটসঅ্যাপের প্যারেন্ট কোম্পানি ফেসবুক শুরু থেকে আইনটির বিরোধিতা করে আসছে। ফেসবুকের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে সবকিছুতেই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি রয়েছে। যার অর্থ, শুধু দুই প্রান্তের দুজন ব্যবহারকারীই তাদের মধ্যে আদান-প্রদান করা কল, মেসেজ, ছবি বা ভিডিওর তথ্য দেখতে বা পড়তে পারবেন। তৃতীয় কোনো ব্যক্তি, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও সেগুলোর তথ্য পাবে না। ভারত সরকারের আইন মানলে গ্রাহকদের সে সুরক্ষা বিঘ্নিত হবে।

গত বৃহস্পতিবার উন্মোচিত নতুন সোস্যাল মিডিয়া আইন বিষয়ে ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার সঙ্গে কখনই হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ আপস করবে না। বরং কীভাবে তাদের সুরক্ষা আরো বেশি জোরদার করা যায়, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সাহায্য নিয়ে অপব্যবহার রোখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখে অভিযোগের বিপরীতে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো বা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন সোস্যাল মিডিয়া আইন চালু হলে সেটা না মেনে কোনো উপায় থাকবে না প্রতিষ্ঠানগুলোর। ফেসবুক টুইটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আইন মানতে বাধ্য হবে। বিদেশী ব্যবহারকারীরাও আইনের আওতায় পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আইনটি স্বাধীন ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হবে।

শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বেই সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ভুয়া সংবাদ, পর্নোগ্রাফি, সন্ত্রাসবাদ, জাতিগত হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো কীভাবে আটকানো যায়, তা অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা না করলে সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়, সেটাও স্পষ্ট। কিন্তু বরাবরই ধরনের আইনের বিরোধিতা করে আসছে ফেসবুক টুইটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন