বুধবার | মার্চ ০৩, ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

প্রথম পাতা

২০৪১ সালের আগে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করে তুলব : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে আমরা নিজেদের দেশপ্রেমিক নির্ভীক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের আগে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব ইনশা আল্লাহ।

গতকাল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১১ স্কোয়াড্রন ২১ স্কোয়াড্রনকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যশোরে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে যান। সেখান থেকে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেন আরো দৃঢ় হয় সেজন্য তার সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, টানা কয়েক মেয়াদের সরকার পরিচালনায় আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের অর্থনীতির গতিকে স্থবির করে দিলেও তার সরকার সীমিত সামর্থ্য নিয়েই অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন শহরের সব সুবিধা পায় সেটা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া এবং চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনসহ পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, চলাচলের সুযোগ সৃষ্টিএসব বিষয়ে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের মানুষের জন্য এটাই আমাদের উপহার থাকবে, প্রতিটি গৃহহারা মানুষ ঘর পাবে, প্রতি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে এবং সবাই উন্নত জীবন পাবে।

একটি আধুনিক চৌকস বিমান বাহিনী গড়ে তোলায় তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এজন্য ফোর্সেস গোল-২০৩০ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বায়নের যুগে যেকোনো দেশের জন্য একটি পেশাদার বিমান বাহিনী অপরিহার্য। এরই মধ্যে সরকার বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেছে মিগ-২৯সহ বিভিন্ন ধরনের ফাইটার বিমান, সর্বাধুনিক অ্যাভিওনিক্স সমৃদ্ধ পরিবহন বিমান, ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ বিমান, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার ডিফেন্স রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, নতুন নতুন ঘাঁটি, ইউনিট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে উত্কর্ষ আনতে বিমান বাহিনী একাডেমির জন্য ঘাঁটিতে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স মহাকাশ গবেষণা, দেশের বিমান বাহিনী এবং বেসামরিক বিমানকে দ্রুত এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়

জাতিসংঘ শাস্তিরক্ষা মিশনেও যেহেতু বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছেসেক্ষেত্রে বিমান বাহিনীকেও উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও নির্মাণ করেছি। আমার একটা আকাঙ্ক্ষা আছে বাংলাদেশেই একদিন যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারব। কাজেই এর ওপর গবেষণা করা এবং আমাদের আকাশসীমা সংরক্ষিত রাখার কাজটা আমরা নিজেরাও যাতে করতে পারি, সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। ইনশা আল্লাহ আমরা ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পাওয়া বিমান বাহিনীর ১১ স্কোয়াড্রন এবং ২১ স্কোয়াড্রনের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পতাকা হলো জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান মর্যাদার প্রতীক। তাই পতাকার মান রক্ষা করা সামরিক বাহিনীর সব সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব।

করোনাকালে বিমানবাহিনীর অবদান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া লোকজনকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। লেবাননে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমানের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা প্রেরণ করা হয়। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। বিমান বাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন