বুধবার | মার্চ ০৩, ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

শেষ পাতা

বিপাকে ইবরা গ্রুপের শত শত বিনিয়োগকারী

সুজিত সাহা, চট্টগ্রাম ব্যুরো

নিশ্চিত মুনাফার হাতছানি ছিল। কালিজিরার তেলের মতো পণ্য এবং সুদের বদলে মুনাফা বণ্টনভিত্তিক ব্যবসার কারণে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেকেই। কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও নেয়া হয়েছিল ঋণ। তবে বিনিয়োগের অর্থ, মুনাফা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণকোনোটিই এখন আর পরিশোধ করতে পারছে না ইবরা গ্রুপ। বন্ধ হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে বিপদে পড়েছেন প্রবাসী থেকে শুরু করে মসজিদ-মাদ্রাসার শিক্ষকসহ শত শত মানুষ।

সন্দ্বীপের উচ্চশিক্ষিত যুবক আরিফ হোসেন তানভীরের উদ্যোগে ২০০৭ সালে যাত্রা করে ইবরা গ্রুপ। ব্যবসার শুরু হয়েছিল ক্ষুদ্র পরিসরে নিত্যপণ্য মোড়ক বাজারজাতের মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে এতে যুক্ত হয় আরো কয়েকজন উদ্যোক্তা। পরিধি বাড়ে ব্যবসার। ব্যাপ্তি বেড়ে ব্যবসা ছড়ায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। এক পর্যায়ে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রত্যাশায় অনেকেই বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসে ইবরা গ্রুপে। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে মোড় নেয় ২০১৭ সালের দিকে। কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন ইবরা গ্রুপের বিনিয়োগকারী শেয়ারহোল্ডাররা। হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় গ্রুপটির কার্যক্রম। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধও হয়ে পড়ে অনিয়মিত।

ইবরা ফুডসে বিনিয়োগকারীদের সিংহভাগই ছিলেন বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। সুদের পরিবর্তে মুনাফা বণ্টনের পলিসি আকৃষ্ট করে মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ধর্মভীরু অনেককেই। এখানে বিনিয়োগ ছিল অনেক প্রবাসীরও।

২০১১ সালে ইবরা গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আটজন পরিচালক যুক্ত হন। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব ছিল ১১ জনের হাতে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানে মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ৬৫০। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হলে একই সময়ে কয়েকশ বিনিয়োগকারী অর্থ উত্তোলনের আবেদন জানান। এর মধ্যে ২০০ জনকে প্রায় কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে দাবি প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তাদের। এছাড়া আরো ২০০ বিনিয়োগকারীর ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ করা হলেও ৫০-৬০ জন পণ্য সরবরাহকারী ৫০ জন শেয়ারহোল্ডারের অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে ৪৫০ শেয়ারহোল্ডার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বকেয়া রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ কোটি টাকার পাওনা রেখে ২০১৭ সাল থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে কনজিউমার পণ্য উৎপাদন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইবরা গ্রুপ।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সরকার নিবন্ধিত কোম্পানি হলেও ইবরা গ্রুপের কার্যক্রম ছিল অনেকটা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির মতো। নিয়মিত বিরতিতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করত প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর আগেই জমি ক্রয়সহ অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেয় ইবরা গ্রুপ। পরবর্তী সময়ে পরিচালন খরচ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। অনিয়মিত হয়ে পড়ে ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধও। এসব কিছু নিয়ে একসময় ইবরা গ্রুপের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে অর্থ সংগ্রহ এবং নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করাতে না পারায় এক পর্যায়ে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

ইবরা গ্রুপে বিনিয়োগ করেছিল আর্থিক খাতের তিন প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, আইআইডিএফসি বিডি ফাইন্যান্সের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখাও। ২০১৬ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান তিনটি থেকে ঋণ নেয় ইবরা গ্রুপ। ঋণের কিস্তি পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে পড়ে এক বছরের মধ্যেই। এরই মধ্যে দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে গ্রুপের বন্ধক দেয়া জমি বিক্রি করে দিয়েছে। তার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইবরা গ্রুপের ঋণের দায় শেষ হয়নি। এর মধ্যে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ইবরা গ্রুপের কাছে পাবে আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কাছে আইআইডিএফসির কোটি টাকা বিডি ফাইন্যান্সের কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সুদে-আসলে বর্তমানে ইবরা গ্রুপের কাছে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট অনাদায়ী পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকায়।

সন্দ্বীপে গ্রুপের নামে জমি, কারখানা ছাড়াও বগুড়ায় অয়েল মিল স্থাপনের জন্য ক্রয় করা জমি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বিনিয়োগ তুলে নেয়া নিয়ে শঙ্কায় শত শত মানুষ। চট্টগ্রামভিত্তিক কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ইবরা ফুডস অ্যান্ড বেভারেজেস লিমিটেড ইবরা অয়েল মিলস লিমিটেড নামে জয়েন্ট স্টকে কোম্পানি খুলেছিল ইবরা গ্রুপ। পরবর্তী সময়ে ইবরা অয়েল মিলস লিমিটেডের নাম পরিবর্তন করে ফ্লোরা এগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পর ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যেই কোম্পানি নিবন্ধন করিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সুদের বদলে মুনাফা বণ্টনের পলিসির কারণে ইবরা গ্রুপে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ধর্মভীরু অনেকেই। এমনই এক ক্ষতিগ্রস্ত সন্দ্বীপের মীর মাঈনউদ্দিন মসজিদের পেশ ইমাম (খতিব) বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিবেশী অন্য বিনিয়োগকারীদের কথা শুনে ইবরা গ্রুপে লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন বিপণন কার্যক্রম। কারণে আমারসহ সন্দ্বীপের অনেক মানুষের বিনিয়োগ আটকে গেছে। ইবরা গ্রুপের অনেক সম্পত্তি থাকলেও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় টাকা আদায়ের কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছি না।

ইবরা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা আরিফ হোসেন তানভীর। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন মহিউদ্দীন শিবলী, ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন যথাক্রমে রফিকুল ইসলাম হেলাল কেফায়েত উল্লাহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মো. আবদুল্লাহ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ছিলেন মো. হোসাইন হাফেজ আবুল কালাম। এছাড়াও পরিচালক হিসেবে ছিলেন প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম (টেকনিক্যাল), জিহাদুল ইসলাম (প্রডাকশন), সাইফুল ইসলাম (মার্কেটিং) আবু তৈয়ব (অ্যাকাউন্টস) তাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ বর্তমানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হোসাইন সৌদি আরবে পলাতক রয়েছেন। আরেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ আবুল কালাম পালিয়েছেন কাতারে।

বিনিয়োগকারীদের অনেকে দাবি করেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সন্দ্বীপের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা স্থাপন পণ্য বাজারজাতের মাধ্যমে ইবরা গ্রুপ খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এক দশকের মধ্যেই ইবরা গ্রুপ ১৬টি পণ্য নিয়ে আসে। সন্দ্বীপ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও পণ্য রফতানি করেছিল ইবরা গ্রুপ। সন্দ্বীপ ছাড়াও চট্টগ্রাম শহরের সিটি গেট এলাকা এবং বগুড়ায় নিজস্ব জমিতে কারখানা স্থাপন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রতিষ্ঠানটির শত শত বিনিয়োগকারীকে বিপদে ফেলেছে। বর্তমান বাজারমূল্যে প্রতিষ্ঠানটির স্থাবর সম্পত্তির মূল্য পাওনাদার ব্যাংকঋণের চেয়ে বেশি হলেও পারস্পরিক আস্থাহীনতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন।

শুরুতে কালিজিরার তেল উৎপাদন বিপণনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছিল ইবরা গ্রুপ। পরবর্তী সময়ে সরিষার তেলসহ আটা-ময়দা, মুড়ি, সুজি, চিড়াসহ ১৬ ধরনের পণ্য প্রক্রিয়াজাত বিপণন কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। সন্দ্বীপে ১৭১ শতাংশ জমিতে কারখানা স্থাপন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ৩৭৯ শতক ৩৭৬ শতক জমি ক্রয় করে। শুরুতে ৩৭৯ একর জমিতে ভাড়ায় অয়েল মিল স্থাপন করলেও পরবর্তী সময়ে জমি কিনে নেয় ইবরা গ্রুপ। বর্তমানে বগুড়ার ৩৭৯ শতক জমিতে ৪৮ হাজার বর্গফুটের একটি কারখানা স্থাপনা, সন্দ্বীপের জমিতে ২৫ হাজার বর্গফুটের কারখানা স্থাপনা ছাড়াও অর্ধশতাধিক যানবাহন, একটি মাঝারি ট্রলার রয়েছে গ্রুপটির মালিকানায়। কিন্তু পরিচালকদের অনেকেই পলাতক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে এসব সম্পদ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অন্য পরিচালকদের কেউ কেউ এখন ইবরা গ্রুপের সন্দ্বীপের জমি দখল করে রেখেছে। অন্য একটি গ্রুপ বগুড়ার জমি দখলে নিয়ে রাখলেও বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না।

বিডি ফাইন্যান্সের আগ্রাবাদ শাখার ম্যানেজার মো. মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, ইবরা ফুডস একটি সম্ভাবনাময় কনজিউমার পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কিন্তু সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী আমরা মামলা দায়ের করেছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আনতে আমরা চেষ্টা করছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইবরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন তানভীর বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা কোনো বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাৎ করিনি। আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। নিয়মিত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ বার্ষিক লভ্যাংশও দিয়েছিলাম। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরিচালকদের মতানৈক্যের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারী পাওনাদারদের কোটি কোটি টাকা আটকে গেছে। ইবরা গ্রুপের স্থাবর অস্থাবর যে সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলো বিক্রি করলে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিকে ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু পরিচালকদের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব, পারস্পরিক মতানৈক্যে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিকল্প বোর্ড অব ডিরেক্টর গঠন কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হয়ে নতুন বিনিয়োগ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি চালু করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্দ্বীপ উপজেলায় ২০১৮ সালের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। কারণে সেখানে তেমন একটা ভারী শিল্প বা শ্রমঘন শিল্প-কারখানা স্থাপনের সাহস করেনি কেউ। সন্দ্বীপের অধিকাংশ পণ্যই আসত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কিন্তু ইবরা গ্রুপ প্রথমবারের মতো শিল্প স্থাপনের মানসিকতা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। কারণে বেকারি পণ্য, মুড়িসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন বাজারজাতের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। সন্দ্বীপে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর সংখ্যা অনেক। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ইবরা গ্রুপ বিনিয়োগকারী হিসেবে তাদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল অর্থ আত্মসাতের কারণে ব্যাংক ছাড়াও কয়েকশ বিনিয়োগকারীর কোটি কোটি টাকা অনাদায়ী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিষয়ে আইআইডিএফসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। তাছাড়া বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চ মুনাফার শর্তে অর্থ সংগ্রহ করায় গ্রুপটির আয় ব্যয়ের মধ্যে অসংগতি দেখা দিয়েছিল। যার পরিণতিতে একটি সম্ভাবনাময় উৎপাদনমুখী শিল্প গ্রুপ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন