মঙ্গলবার | মার্চ ০৯, ২০২১ | ২৫ ফাল্গুন ১৪২৭

সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান শুরু ২৪ মে

পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় লাখ ৩০ হাজার। করোনা সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদেরও হল ত্যাগ করতে হয়। অনেকে বাড়ি চলে যায়। অনেকে আবার অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে শহর এলাকা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে মেস ভাড়া করে থাকছে। সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল বন্ধ রেখে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের অনেকে নতুন অনিশ্চয়তা পড়ে। ফলে হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে অস্থির হয়ে ওঠে বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাস শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল খুলে দেয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা যুক্তিসংগত।

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশও ক্লাস বা মুখোমুখি শিক্ষণ-পঠনের বিষয়টি অনুৎসাহিত করেছে। তবে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভার্চুয়াল বা অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া গ্রেডিংয়ের কাজও চলছে সমানতালে। তাই তাদের শিক্ষার্থীদের সেশনজট বা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে না। চীন যেমন স্মার্ট ক্যাম্পাস কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকরা অনলাইনে কীভাবে ক্লাস নেবেন সে বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তৈরি করেছে লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ। ডিজিটাল লার্নিং প্লাটফর্মের আওতায় মাত্র দুই সপ্তাহে পাঁচ হাজার স্নাতক স্নাতকোত্তর কোর্স অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটি। একজন শিক্ষার্থীও যাতে বাদ না পড়ে নিশ্চিত করেছে তা-ও। যেসব শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক জটিলতায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ে সংযুক্ত হতে পারবে না, তাদের বিশেষ কোর্স প্যাকেজ সরবরাহ করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে, যেখানে রয়েছে শিক্ষকদের ক্লাস লেকচারসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো।

কভিডের কারণে স্বাভাবিকভাবেই আবাসিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিপত্তিতে পড়েছে। আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় তাই আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে থাকার অনুমতি রয়েছে। তবে ক্যাম্পাস বা ডরমিটরিতে থাকার সময় শিক্ষার্থীদের কঠোর নিয়ম পরিপালন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ডরমিটরিতে কোনো শিক্ষার্থী বাইরের থেকে অতিথি যেমন আনতে পারবে না, তেমনি জরুরি প্রয়োজন না হলে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার অনুমতিও নেই তাদের। নিরাপত্তারক্ষীর চোখ এড়িয়ে কেউ যদি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার পাশাপাশি সুরক্ষা নিশ্চিত করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। এখানে একটি রুমে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়েই থাকতে হয় কিংবা ডাইনিং হলে একসঙ্গে অনেককে বসে খাবার খেতে হয়। অবস্থায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা না দিয়ে হলে থাকার অনুমতি দিলে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দেয়াটাই স্বাভাবিক। তাই শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করে হলে আসার অনুমতি দিতে হবে। বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে হলের পরিচ্ছন্নতাও। অস্বাস্থ্যকর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। তাছাড়া শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। ক্লাস বা পরীক্ষায় যেহেতু আবাসিক-অনাবাসিক দুই ধরনের শিক্ষার্থীই যৌথভাবে অংশগ্রহণ করবে, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করণীয় ঠিক করতে হবে। হলসহ ক্লাস পরীক্ষার সময়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পরস্পরের থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ ছিল দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সময়কালে সীমিত আকারে অনলাইনে কিছু ক্লাস বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সামান্যই। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে পাঠদান কর্মসূচি চালু করলেও সব শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পাননি। যেসব এলাকায় অনলাইন সুবিধা নেই, সেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি। তাই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পরীক্ষা শুরুর আগে অবশ্যই তাদের আবাসন সমস্যা সমাধান করা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে।

বলার অপেক্ষা নেই যে করোনা পরিস্থিতিতে নতুন করেই দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বলতাগুলো সামনে এসেছে। কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাসের পরিবেশ প্রস্তুতির বিষয় অনগ্রসর হওয়ায় পুরোপুরি অনলাইন ক্লাসে যেতে পারেনি। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়ছেন। তাদের অনেকের যেমন অনলাইনে ক্লাস করার মতো সুযোগ নেই, তেমনি ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তিগত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনলাইন ক্লাসে তাদের অংশগ্রহণের সক্ষমতা নেই। অবস্থায় চতুর্থ বর্ষ ফাইনাল মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া সেশনজট নিরসনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জরুরি। কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অধিকার-সুযোগ-ন্যায়ানুগ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিতে হবে। অবশ্যই হলে আবাসনের নিশ্চয়তা রেখে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন