রবিবার | ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

পণ্যবাজার

চাল রফতানি বাড়াতে পারছে না কম্বোডিয়া

বণিক বার্তা ডেস্ক

করোনা মহামারীর কারণে আফ্রিকা এশিয়ার দেশগুলোয় চালের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল কম্বোডিয়া। তবে বাস্তবে সেসব উদ্যোগের সুফল মেলেনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে চাল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশের বেশি কমেছে। ফেব্রুয়ারি মার্চে কম্বোডিয়ার চাল রফতানিতে মন্দা ভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) মন্দার মধ্য দিয়ে কাটাবে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি খাত। খবর রয়টার্স খেমারটাইমসডটকম।

চাল উত্পাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় কম্বোডিয়ার অবস্থান ১৩তম। তবে কম্বোডিয়া বিশ্বের অষ্টম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। প্রতি বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ১০-১২ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি হয়। কম্বোডিয়া রাইস ফেডারেশনের (সিআরএফ) প্রেসিডেন্ট সং সারান বলেন, চলতি বছরটা মন্দা ভাবের মধ্য দিয়ে শুরু করেছে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি খাত। মন্দা ভাব জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকজুড়ে বজায় থাকতে পারে।

সিআরএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩৪ হাজার ২৭৩ টন চাল রফতানি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি কমেছে ৩২ দশমিক শূন্য শতাংশ। সময় মোট ২৮টি দেশে চাল রফতানি করেছে কম্বোডিয়া। চাল রফতানি করে গত জানুয়ারিতে কম্বোডিয়ার রফতানিকারকরা মোট কোটি লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় করেছে।

খাদ্যপণ্যটির রফতানি কমার বিষয়ে সং সারান বলেন, জানুয়ারিতে কম্বোডিয়ার চাল রফতানিতে রীতিমতো ধস নেমেছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে বছরের প্রথম প্রান্তিকে কম্বোডিয়ার চাল রফতানিতে পতন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ আমরা রফতানি বৃদ্ধির আশা নিয়ে ২০২১ সাল শুরু করেছিলাম। সে আশা পূরণ হয়নি।

চলতি বছরের প্রথম মাসে চীনের বাজারে কম্বোডিয়া থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী চাল রফতানি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআরএফ। তবে একই সময়ে দেশটি থেকে ইউরোপের বাজারে খাদ্যপণ্যটি রফতানিতে ৬০ শতাংশ পতন দেখা দিয়েছে। জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া থেকে রফতানি হওয়া চালের ৪৭ শতাংশ গেছে চীনে। ইউরোপের বাজারে গেছে রফতানি হওয়া চালের ২৩ শতাংশ। ১০ শতাংশ চাল রফতানি হয়েছে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোয়। সময় কম্বোডিয়া থেকে বাকি ২০ শতাংশ চাল রফতানি হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশে।

পরিস্থিতির পেছনে পণ্যবাহী কার্গো সংকটকে দায়ী করছেন কম্বোডিয়ার চাল রফতানিকারকরা। তাদের মতে, করোনা মহামারীর কারণে সময়মতো পণ্যবাহী কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে কম্বোডিয়ার চাল রফতানিতে। কমে এসেছে খাদ্যপণ্যটির রফতানি।

বিষয়ে সিআরএফের প্রেসিডেন্ট সং সারান আরো বলেন, পণ্যবাহী কার্গো সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এতে কম্বোডিয়ার একক হাত নেই। তবে এর শিকার হয়েছে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি খাত। আগামী মাসগুলোয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে রফতানিমুখী খাতকে।

সং সারান বলেন, আমাদের কাছে চালের নতুন রফতানি অর্ডার আসছে। তবে ক্রেতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা চাল সরবরাহ করতে পারছি না। বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে চলমান কার্গো সংকট।

এদিকে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি খাত স্থবিরতা কাটিয়ে গত বছর ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে কম্বোডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

২০১৯ সালেও কম্বোডিয়া থেকে একই পরিমাণ চাল রফতানি হয়েছিল। তবে করোনা মহামারীর মধ্যে গত বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ লাখ টনে। কম্বোডিয়ার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি চাল রফতানির রেকর্ড। এর পর পরই মন্দা ভাবের মধ্য দিয়ে ২০২১ সাল শুরু করেছে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি খাত।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন