বৃহস্পতিবার | মার্চ ০৪, ২০২১ | ২০ ফাল্গুন ১৪২৭

খবর

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা

অর্থনীতির অব্যবস্থাপনার সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কাজের প্রশংসা উঠে এসেছে। আবার অর্থনীতির বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার সমালোচনাও করেছেন সংসদ সদস্যরা। এক সংসদ সদস্য টাকা পাচার এবং লুটপাটকারীদের পরিচয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন। গতকাল সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বিদেশে টাকা পাচার এবং লুটপাটকারীদের পরিচয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন। সময় সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কাজের প্রশংসাও করেন ময়মনসিংহের সংসদ সদস্য।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উদ্ধৃত করে ফখরুল ইমাম বলেন, হদিস নেই লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকার। কোথায় আছে রফতানি আয়ের টাকা? সম্পদশালীর সংখ্যা বেড়েছে। দরিদ্রের আয় বাড়ছে না। আয় বৈষম্য বাড়ছে।

টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে ফখরুল ইমাম প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশে বলেন, লুটেরা কারা? এরা কোন দলের? সরকারে না আশপাশে? এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাই।

পিপলস লিজিং কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশে টাকা পাচার করছেন। এটা দেখা দরকার। ভাগ্যবান পিকে হালদারের ১৫ বান্ধবী। ৮৬৭ কোটি টাকা বান্ধবীদের অ্যাকাউন্টে। আর উনি সাড়ে হাজার কোটি টাকা নিয়ে পলাতক। এই যে পিপলস লিজিংয়ে মানুষ টাকা রেখেছিলেন সুখের আশায়। আমার এক বন্ধু বলেছেন, তিনি সর্বহারা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার টাকা নেই। কিন্তু বান্ধবীরা সুখে আছেন। শুধু পিকে হালদার কেন, তার পেছনে যারা আছেন তাদের ধরতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক কাজ করছেন। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক সেক্টর পিতামাতার বখে যাওয়া সন্তানের মতো। অবাধ্য সন্তানের মতো। সরল পথে আনা যাচ্ছে না। হাইকোর্টও বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ঠগবাজ, প্রতারকদের আশ্রয় দিচ্ছে। এক মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে পর্যবেক্ষণ এসেছে।

সোমবার বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সমালোচনা করে পীর ফজলু বলেন, গতকাল (সোমবার) একজন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ খাদ্য পাচ্ছে না। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, কোথা থেকে তথ্য পেলেন জানি না। এসব জানার জন্য তথ্য লাগে না। মানুষের সঙ্গে মিশলেই বোঝা যায়। বাংলাদেশে কেউ অনাহারে নেই। কোথা থেকে পেলেন তথ্য। মানুষের কাছে উনি জান কিনা জানি না। উনার কথা মিথ্যা।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, প্রথমে বলেছে টিকা আসবে না। যখন এল তখন বলছে তারা নেবে না। আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। সংকটের সময় তারা বলে পেহেলে আপ /১১-এর সময়ও করেছে। এখনো করছে। টিকা নিয়ে রাজনীতির সুযোগ নেই। ক্রান্তিকালে রাজনীতি হয় না। মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি হয় না।

জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন আরা মান্নান বলেছেন, দেশে কতজন পিকে হালদার আছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে খুঁজে বের করতে হবে। পিকে হালদারকে কঠোর শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে ধরনের পিকে হালদার আর তৈরি হবে না। অনেক মেয়ে এখন পিকে হালদারের বান্ধবী না হতে পেরে আফসোস করছেন। কারণ এত টাকা তারা পেয়েছেন।

রওশন আরা মান্নান বলেন, দেশে এত দুর্নীতি বেড়ে গেছে, যত অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে, দেশের দুর্নীতিও তত বেড়ে যাচ্ছে। এটা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

বিএনপি উন্মাদের মতো আচরণ করছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান বলেন, বিএনপি জামায়াতের ইতিহাসই মিথ্যায় ভরা। পৌর নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দেখছি জনগণ তাদের ভোট দিতে চায় না। কারণে বিএনপি উন্মাদের মতো আচরণ করছে।

আলোচনায় আরো অংশ নেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, আওয়ামী লীগের সুবিদ আলী ভুইয়া, এবি তাজুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আব্দুস সালাম মুর্শেদী প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন