সোমবার | মার্চ ০৮, ২০২১ | ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

সম্পাদকীয়

সিলেটে বিদেশফেরত ২৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত

আকাশপথে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে

বাজারে করোনার টিকা এলেও কবে চলমান মহামারী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা অনিশ্চিত। এর মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধি করোনার দুটি নতুন ধরন শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশ আবারো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বাংলাদেশ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে না গিয়ে আকাশপথ সচল রেখেছে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সিলেটে আসা ২৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর মিলছে। এটি নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে বৈকি।

চলতি শীতে দেশে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনমনের আশঙ্কা করা হয়েছিল। আশার বিষয় হলো এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির তেমন অবনতি ঘটেনি। বরং দৈনিক সংক্রমণ মৃত্যুহার উভয় দিক থেকে আগের চেয়ে উন্নতি ঘটছে বলে প্রতীয়মান। কিন্তু বিদেশতফেরতদের যথাযথভাবে সামলানোই বর্তমানে মহামারী নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পর পরই যুক্তরাজ্যফেরতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ঢাকার আশকোনার হজ ক্যাম্প দিয়াবাড়ির পাশাপাশি কিছু হোটেল এর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমনকি সিলেটেও স্থানীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সরকারি নির্দেশনায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কমিয়ে চারদিন করা হয় এবং করোনা পরীক্ষা নেগেটিভ এলে নিজ নিজ বাড়িতে আরো ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। কঠোরভাবে নির্দেশনা পরিপালন নিশ্চিতের বিকল্প নেই। বিশেষ করে সিলেটের সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো আরো কার্যকরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এর অন্যথা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বৈশ্বিক পরিসরে করোনা নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে সবচেয়ে বেকায়দায় ইউরোপ। নতুন ধরন মোকাবেলায় ইউরোপীয় দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। অব্যাহতভাবে সংক্রমণ বাড়ছে সেখানে। অবস্থায় মহাদেশটির আন্তঃদেশগুলো খুব অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহন যাত্রী ভ্রমণ ছাড়া আকাশপথ অনেকটাই সীমিত করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অনেক দেশই ভ্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও সম্প্রতি দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সামাজিক সংক্রমণ বাড়ার কারণে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও বন্ধ করেছে নিজেদের আকাশপথ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েলের আকাশপথও বহির্বিশ্বের জন্য আপাতত বন্ধ। এয়ারলাইনসগুলোর আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বাংলাদেশে ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করা কিছুটা কঠিন। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো অবশ্যই আরো জোরদার করতে হবে। পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কেবলই যুক্তরাজ্যফেরতদের বিশেষ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। অন্য দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের খুব একটা বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা অন্য যেসব দেশে করোনা পরিস্থিতি অবনতিশীল সেসব দেশ থেকে যারা আসছেন তাদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নইলে দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ধরে রাখা কঠিন। এক্ষেত্রে অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

দুঃখজনকভাবে সব দেশ থেকে আসার ক্ষেত্রে কভিড টেস্ট করা করোনা সনদ প্রদর্শনের সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিমানবন্দরে অনেক ক্ষেত্রে তা ঢিলেঢালাভাবে পরিপালনের অভিযোগ মিলছে। কর্তৃপক্ষের এক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হওয়া চাই। সবাইকে নিবিড় স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা, ট্রানজিট ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের তালিকা আগে থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু বিমানবন্দর নয়, সমুদ্রবন্দর স্থলবন্দরসহ সব অ্যাকসেস-এক্সিট পয়েন্টেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো সমানভাবে বহাল রাখতে হবে। বিশেষ করে সমুদ্রবন্দর হয়ে কার্গো জাহাজে করে অনেক বিদেশী প্রবেশ করে। পথে বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে প্রবেশের সুযোগ আছে। কাজেই সমুদ্রবন্দরেও স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিদেশফেরতদের ঘিরে উদ্বেগ কমছে না। কাজেই এসব ক্ষেত্রে শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই।

এখানে এয়ারলাইনসগুলোর একটা বড় ভূমিকা আছে। তাদের আরো একাগ্রতা দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। প্রতিটি যাত্রী যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং অন্য ব্যবস্থাগুলো অনুসরণ করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে তাদেরই। এর ব্যত্যয় হলে এয়ারলাইনসগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি ভাবতে হবে। সত্য যে করোনা মোকাবেলায় আমাদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কী কী করতে হবে, এখন তা স্পষ্ট। এসব বিষয়ে আর কোনো ধোঁয়াশা নেই। বৈশ্বিক দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করে দেশীয় বাস্তবতায় সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপে নতুন করে সৃষ্ট উদ্বেগের অবসান হবে বলে প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন