সোমবার | মার্চ ০১, ২০২১ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

দরিদ্র দেশগুলো ভ্যাকসিন না পেলে ভুগবে ধনীরাও

বণিক বার্তা ডেস্ক

দরিদ্র দেশগুলোকে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহে ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় তীব্রতর হবে। এর মূল্য চুকাতে হবে ধনী দেশগুলোকে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।  খবর নিউইয়র্ক টাইমস। 

ধনী দেশগুলো অনেকটা ভ্যাকসিনের একচেটিয়া মজুদ শুরু করেছে।  এটি দরিদ্র দেশগুলোতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। এতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা উন্নয়শীল দেশগুলোর মতো উন্নত দেশগুলোতেও লাগবে। 

আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ধনী দেশগুলো তাদের শতভাগ নাগরিককে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে পারবে।  অথচ তখনো ভ্যাকসিনেশন থেকে অনেক দূরে থাকবে দরিদ্র দেশগুলো। 

গবেষণাটি বলছে, এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হবে। এ অংকটি জাপান ও জার্মানির সম্মিলিত বার্ষিক জিডিপির চেয়েও বড়। তবে এ ক্ষতিতে এখানে অর্ধেকের বেশি মূল্য চুকাতে হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেনের মতো ধনী দেশগুলোকে। 

গবেষকরা যেটিকে বলছেন ‘খুব সম্ভাব্য’ সেই চিত্রটি বলছে, বছর শেষে উন্নয়নশীল দেশগুলো হয়তো তাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন দিতে পারবে।  তখন বিশ্ব অর্থনীতিকে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন থেকে ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়নের ধাক্কা সামলাতে হবে। এক্ষেত্রেও ধনী দেশগুলোকে অর্ধেকের বেশি ক্ষতি বহন করতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সহায়তায় পরিচালিত গবেষণাটি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ভ্যাকসিনের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন সব দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য জরুরি, বিশেষ করে সেসব দেশ, যারা বাণিজ্যের ওপর অধিক নির্ভর করে। পাশাপাশি এটি সেই ধারণাটির সমালোচনা করে যেখানে বলা হয়, ভ্যাকসিন ভাগাভাগি করা মানে দরিদ্র দেশকে সহায়তা করা।

এ গবেষণাটির একজন গবেষক সেলভা ডেমিরালপ বলেন, স্পষ্টত সব অর্থনীতি একটি আরেকটির সঙ্গে যুক্ত। অন্য অর্থনীতিগুলোর পুনরুদ্ধার করা ছাড়া কোনো অর্থনীতিই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

ডেমিরালপ অ্যাক্ট অ্যাক্সিলারেটর নামের বৈশ্বিক উদ্যোগটির কথাও বলেন, যে উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে মহামারী সংক্রান্ত সংস্থান সরবরাহের জন্য। এ উদ্যোগের অধীনে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও, সব মিলিয়ে সংগ্রহ করতে পেরেছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। 

গবেষণাটি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতাও তুলে ধরে। এখানে প্রয়োজনীয় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার হয়তো অনেক বিশাল পরিমাণ অর্থ মনে হতে পারে। কিন্তু মহামারীকে চলতে দেয়ার ফলে যে ক্ষতি হবে, এটি সে তুলনায় সামান্যই। 

একটি খুব সাধারণ ধারণা হচ্ছে, মহামারী কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয় না। এটি কোনো সীমানা, বর্ণ, শ্রেণী কাউকেই ছাড় দেয় না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথাও বলে। এটি স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের মৃত্যু এবং বিপর্যস্ত জীবিকার সঙ্গে বসবাসে ঠেলে দিয়েছে।  বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের। এর বিপরীতে হোয়াইট-কলার কর্মীরা বেশ নিরাপদেই বাসায় বসে কাজ করতে পেরেছে। আবার কোনো কোনো ধনী ব্যক্তি ব্যক্তিগত ইয়টে গিয়ে কিংবা নিজের কেনা দ্বীপে গিয়ে মহামারী থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে। 

কিন্তু আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জগতে নভেল করোনাভাইরাস থেকে লুকানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ সরবরাহ চেইনের বিভিন্ন দেশে পণ্য সরবরাহের যে প্রক্রিয়া, ভাইরাসের টিকে থাকার মাধ্যমে তা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। 

কক ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদদের একটি দল ৬৫টি দেশের ৩৫টি শিল্পের বাণিজ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অসম ভ্যাকসিন বিতরণের অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো খতিয়ে দেখেছেন। 

উন্নয়নশীল দেশগুলো ভাইরাসের বিস্তার থামানোর লক্ষ্যে লকডাউনের কারণে যদি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থেকে যায়, তখন তাদের হাতে খরচ করার জন্য খুব সামান্য অর্থই থাকবে। যে কারণে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার রফতানিকারকদের বিক্রি হ্রাস পাবে। পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকেও ব্যাপকভাবে সংকটে পড়তে হবে। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন