বুধবার | মার্চ ০৩, ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

শেষ পাতা

সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নন-লেদার পাদুকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কভিড-১৯ মহামারীতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। খুব সামান্য সময়ের জন্য অর্থনীতির পুনরুদ্ধার নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিল বিশ্ববাসী। তবে বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন এবং আবারো শুরু হওয়া সংক্রমণপ্রবাহে স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি পুনরায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অপরিহার্য পণ্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে। এর মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের রফতানি খাতের সম্ভাবনাময় পণ্য পাদুকা। এক্ষেত্রে নন-লেদার বা চামড়াবিহীন পাদুকাতেই সম্ভাবনার দ্যুতি দেখা যাচ্ছে বেশি।

রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে ২৭ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের নন-লেদার ফুটওয়্যার রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্যটি রফতানি হয় ২৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের। হিসাবে গত অর্থবছর শেষে পণ্যটির রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক শূন্য শতাংশ। চলমান ২০২১-২১ অর্থবছরেও প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) নন-লেদার ফুটওয়্যার পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ১৩ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নন-লেদার ফুটওয়্যারের প্রধান ১০ রফতানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ইতালি, জার্মানি, পোল্যান্ড মরক্কো।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে হাতে গোনা দু-একটি কারখানা আছে, যারা লেদার ফুটওয়্যার তৈরি করে স্বস্তিতে রয়েছে। ফুটওয়্যার রফতানি সম্প্রসারণের জন্য এখন লেদার সিনথেটিক ফুটওয়্যারের জন্য একই প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রকৃত চিত্র হচ্ছে ফুটওয়্যার এখন ভালো করছে না। তবে তার মধ্যেও নন-লেদার ফুটওয়্যার বা স্নিকারের সম্ভাবনা বেশ ভালো।

বিষয়ে জানতে চাইলে লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মোমেন ভুঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্বব্যাপী অ্যাথলেটিক পণ্যের চাহিদা সব সময়ই ভালো, বিশেষ করে ফুটওয়্যারের। আমাদের এখানে খুব বেশি উৎপাদন ক্ষেত্র ছিল না, এখন কিছু হচ্ছে। নন-লেদারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশ্বের ফুটওয়্যার বাজারের ৭০ বা প্রায় ৮০ শতাংশই নন-লেদার ফুটওয়্যারের। সিনথেটিক সুজের চাহিদা সব সময়ই ছিল। এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে পণ্যের চাহিদা আরো বাড়ছে। নন-লেদার ফুটওয়্যারের বড় সমস্যা কাঁচামাল। এজন্য চীনের ওপরই নির্ভর করতে হয়। নন-লেদার ফুটওয়্যার লেদার ফুটওয়্যারের জন্য কোনো হুমকি নয়, কারণ লেদার ফুটওয়্যারের একটা চাহিদা সব সময়ই থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন ফুটওয়্যার পণ্যে নন-লেদারের চাহিদায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফুটওয়্যার পণ্যের ফ্যাশন, স্থায়িত্ব, রঙসব কিছুই চান ভোক্তারা। এটা চামড়াজাতে সম্ভব না হলেও নন-লেদারে সম্ভব হচ্ছে। আবার চামড়াজাত ফুটওয়্যারের দামও বেশি। নন-লেদারে পণ্যের বৈচিত্র্য বেশি। দামও জনসাধারণে সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া চামড়াজাত পাদুকায় হাঁটার আরাম তুলনামূলক কম।

কারণে ভোক্তারাও এখন দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে নন-লেদার ফুটওয়্যার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। যেমন কেউ হাঁটার জন্য এক ধরনের নন-লেদার ফুটওয়্যার আবার অন্য কাজের জন্য আরেক ধরনের পাদুকা ব্যবহার করছেন।

নন-লেদার ফুটওয়্যার প্রস্তুত রফতানিকারকরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ নন-লেদার ফুটওয়্যার বা স্নিকার ব্যবহার করছে। দামি চামড়াজাত পাদুকার চাহিদাও এখন কমে গিয়েছে। এর বিপরীতে গোটা বিশ্বেই নন-লেদার ফুটওয়্যারের বাজার বড় হচ্ছে। সুযোগটা বাংলাদেশ এখন কেবল কাজে লাগাতে শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের মূলত চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে নন-লেদার ফুটওয়্যার খাতে বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ম্যাফ সুজ লিমিটেড (টিকে গ্রুপ), ফরচুন সুজ লিমিটেড ইত্যাদি।

ম্যাফ সুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনাত মো. আবু ওবায়দা বণিক বার্তাকে বলেন, সার্বিকভাবে ফুটওয়্যার ব্যবহারে চাহিদায় অনেক বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সিনথেটিক নন-লেদার ফুটওয়্যারে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এখন ধীরে ধীরে হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন নন-লেদার ফুটওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আছে ২৫-২৬টি। নন-লেদার ফুটওয়্যারের বিষয়ে সরকারের সমর্থন প্রয়োজন। বিশেষ করে নন-লেদার ফুটওয়্যারের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে প্রণোদনার মাধ্যমে সরকারের বিশেষ সমর্থন খুবই প্রয়োজন পণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে।  

ফরচুন ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের কারখানায় উৎপাদিত প্রধান পণ্য হলো স্নিকার বা নন-লেদার ফুটওয়্যার। পণ্যটিতে চামড়ার ব্যবহার একেবারেই নেই বলা যাবে না। অনেক ক্ষেত্রেই মিশ্রণ দেখা যায়। বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে লেদার ফুটওয়্যারের চাহিদা কমছে। আবার লেদার ফুটওয়্যারে আমরা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠি না। কারণ ভারত পাকিস্তানে চামড়ার দাম অনেক কম। পণ্যের প্রধান চ্যালেঞ্জ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে কাঁচামালের প্রাপ্যতা পণ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। নন-লেদারে আমাদের প্রধান প্রতিযোগী চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া। এখন মিয়ানমারের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কভিডকালেও স্নিকার্সের চাহিদা ভালো। পণ্যের বড় ক্রেতার মধ্যে আছে প্রাইমার্ক, এইচঅ্যান্ডএম, ডাইসম্যান, কেমার্ট, ফিলা। ভারতে স্নিকার্সের বড় বাজার আছে। দেশটিতে আমাদের রফতানি চাহিদাও বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন