বুধবার | মার্চ ০৩, ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান

কিছু আমদানিকারক ইচ্ছা করেই পণ্য খালাস করেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

কিছু কিছু আমদানিকারক ইচ্ছা করেই কাস্টমসে পণ্য ফেলে রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন।

আমদানি রফতানিতে কাস্টমস প্রসিডিউরগুলো সম্পন্ন করতে কত সময় লাগে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাস্টমস প্রসিডিউরে সময় লাগে এমন অভিযোগ করা হয়। কিন্তু এটা শুধু কাস্টমসের কাজ নয়। এর সঙ্গে আরো বিভিন্ন সংস্থার ক্লিয়ারেন্সের বিষয় থাকে। সুতরাং অন্যান্য সংস্থার ক্লিয়ারেন্সের পর কাস্টমস ছাড়পত্র দিতে পারে। ক্লিয়ারেন্সগুলো ম্যানুয়াল সিস্টেমে নিতে হয়। তবে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ওয়ানলাইনে ক্লিয়ারেন্স নেয়া সম্ভব হবে। তখন সময়টা কম লাগবে।

চেয়ারম্যান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সবাই দ্রুত পণ্যের দ্রুত খালাস চান। আবার এর বিপরীতও আছে। কিছু কিছু আমদানিক যত দিন পারেন ফেলে রাখতে পারলে খুশি হন। পণ্যটা তার গোডাউনে জায়গা হবে না বা নিতে চান না। সেজন্য তারা সময়মতো বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করেন না। গাড়ি আমদানিকারকরা ইচ্ছা করেই কাস্টমসে গাড়ি ফেলে রাখেন। কারণ তার স্টোরেজ খরচের চেয়ে ড্যামারেজ দেয়া সহজ। তবে সবাই কাজ করেন না।

বিষয়ে এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইম্পোর্টারের পক্ষে বিল অব এন্ট্রি দাখিল না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাজ শুরু করতে পারি না। দেখা গেছে, পণ্য কাস্টমসে আসার ১০ দিন পর ৪০ শতাংশ আমদানিকারক বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করেন। তারা যেন দ্রুত সাবমিট করেন এজন্য আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই আমদানিকারককে বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে হবে। পণ্য খালাসের সময়টা কমিয়ে আনতে আমরা যথাযথভাবে কাজ করতে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গে এনবিআরের সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া বলেন, অন্য কোনো বিভাগের যদি সমস্যা না থাকে, তাহলে প্রায় ৬০ শতাংশ দিনেরটা দিনেই সম্পন্ন হয়। তাছাড়া অন্য সংস্থা থেকে সমস্যা পাওয়া গেলে সেটা সেই সংস্থার সমস্যার ধরন অনুযায়ী সময় লাগে। যেসব চালানে দেরি হয়, সেগুলো অনেক সময় রাসায়নিক পরীক্ষার কারণে হয়।

অথরাইজ ইকোনমিক অপারেটর বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এটা ডিপেন্ড করে আস্থার ওপর। এটা তাকেই দেয়া হয়, যিনি প্রমাণিত একজন আমদানিকারক, যিনি কখনই এনবিআরকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেন না। এটিই আস্থার জায়গা। তখনই তাকে আমরা অথরাইজ ইকোনমিক অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করব। তখন তার যে পণ্যই আসুক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সরল বিশ্বাসে তার ইয়ার্ড পর্যন্ত নিয়ে যেতে দেয়া হবে। আমরা তো চাই এটা বাড়ুক। কিন্তু সেই আস্থার জায়গাটা তৈরি হচ্ছে।

রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ডিসেম্বর (ছয় মাসে) পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল লাখ ৪১ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায় হয়েছে লাখ ১০ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা কম। গত বছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল লাখ হাজার ৮৮ কোটি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ১০ শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন