শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

খবর

ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা

সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য আমাদেরই তৈরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত শনিবার বার্ষিক গবেষণা সম্মেলন ২০২১ উপলক্ষে ইউএন উইমেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় আনটোল্ড টেলস অব উইমেন চ্যাম্পিয়নস শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনা। সেখানে বক্তারা বলেন, সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য আমাদের নিজেদেরই তৈরি। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জলবায়ু ঝুঁকির ফোরামের থিম্যাটিক রাষ্ট্রদূত সায়মা ওয়াজেদ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলছে, যা নারীদের আরো বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারী মেয়েদের কেবল ভিকটিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক পরিণতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং কমিউনিটি রেসিলিয়েন্স তৈরিতে সক্রিয় জনগোষ্ঠী হিসেবে পুরুষকেই উপস্থাপন করা হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের সেই লড়াইয়ের চিত্র ফুটে ওঠে না। তাই ইউএন উইমেন ভার্চুয়াল সংলাপের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারীর শক্তি সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

অধিবেশনটিতে গ্রামীণ থেকে শহুরে, স্থানীয় থেকে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বিশ্ব স্তরের জলবায়ু পরিবর্তন সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারী নেত্রীদের একত্র করা হয়েছিল, যেখানে তারা তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো পরিবেশন করেন এবং এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনটিতে তৃণমূলের নারী চ্যাম্পিয়নদের ছয়টি অজানা গল্প বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা কুড়িগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য তারা ক্লাইমেট প্রোটেস্টর, প্রতিবেদক, দুর্যোগ প্রস্তুতি নেতা, মহিলা উদ্যোক্তা, সংস্কারক ইত্যাদি বহুমুখী ভূমিকা পালন করছেন। তাদের বক্তব্য থেকে এটি উঠে এসেছে যে, আমাদের সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য আমাদের তৈরি করা, এটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না, সুতরাং নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো অবিচার হওয়া উচিত নয়।

অংশগ্রহণকারীরা এবং আলোচকরা ভিডিও সিরিজ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত প্রকাশ করে বলেন, নারী যদি সমাজ থেকে যথাযথ সমর্থন না পান, তবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সে নিজেকে বিকশিত করতে পারেন না। নারীর বিকাশের জন্য প্রয়োজন একটি সক্ষম পরিবেশ। কারণ একজন নারীর বিকাশ মানে পরিবার, সমাজ একটি গোটা দেশের বিকাশ।

সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সালেমুল হক, আইসিসিএসিএডি পরিচালক; খুশী কবির, সামাজিক কর্মী; ইউসিএলের অধ্যাপক . মরিন ফোর্ডহ্যাম; প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে আশরাফুন্নাহার মিষ্টি; আফরোজা বেগম আল্পোনা, কুড়িগ্রাম সদরের ভাইস চেয়ারম্যান; জান্নাতুল মাওয়া, সাতক্ষীরা থেকে বিন্দু নারী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক; মাসুরা পারভিন, সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচির সাতক্ষীরা ইউনিটের নেতা; ফরিদা ইয়াসমিন, নারী অ্যাসোসিয়েশন ফর রিভাইভাল অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক, কুড়িগ্রাম; লিপিকা রানী বৈরাগী অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ওয়েলফেয়ারের নির্বাহী পরিচালক, খুলনা সাতক্ষীরার দক্ষিণের মশাল পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদা জাহান মৌ। দিলরুবা হায়দার, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের অফিস ইনচার্জ অধিবেশনটি পরিচালনা করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন