শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

যুক্তরাষ্ট্রের কারখানা কার্যক্রম ১৪ বছরের সর্বোচ্চে

বেড়েছে নতুন ও পুরনো বাড়ি বিক্রি

বণিক বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানা ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম ১৪ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

শুক্রবার প্রকাশিত অন্য একটি পরিসংখ্যান বলছে, ব্যবহূত বাড়ি বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। নভেল করোনাভাইরাস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে ম্যানুফ্যাকচারিং আবাসন খাত। তবে মহামারীর কারণে নির্মাণ স্থাপনা এবং কারখানাগুলোতে শ্রমিক সংকটও দেখা গেছে, যা নির্মাণ আবাসন খাতের শক্তিকে কিছুটা হলেও হ্রাস করতে পারে।

উপাত্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিট বলছে, চলতি মাসের প্রথমার্ধে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে (পিএমআই) সূচক ৫৯ দশমিক পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা কিনা ২০০৭ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ডিসেম্বর মাসে খাতের পিএমআই ছিল ৫৭ দশমিক পয়েন্ট।

অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সূচক জানুয়ারির শুরুতে ৫৬ দশমিক পয়েন্টে নামতে পারে। মূলত ৫০-এর ওপরে যেকোনো সূচক উৎপাদন সম্প্রসারণকেই ইঙ্গিত করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ১১ দশমিক শতাংশ।

আইএইচএস মার্কিটের জরিপে কারখানাগুলোর পাওয়া নতুন অর্ডারগুলোও খতিয়ে দেখেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর যা এখন সর্বোচ্চ অবস্থানে গিয়ে পৌঁছেছে। চাহিদার বৃদ্ধি বিদ্যমান এবং নতুন গ্রাহকের আগ্রহকে প্রতিফলিত করছে। এছাড়া মহামারীর কারণে আগে স্থগিত করে রাখা কিছু অর্ডারও এখন নিতে শুরু করেছেন গ্রাহকরা। যার ফলে নতুন করে মাস থেকে আবার কর্মী নিয়োগ দিতে শুরু করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। কারখানার কর্মসংস্থান সূচকও ডিসেম্বরের ৫২ দশমিক শতাংশ থেকে ৫৪ দশমিক শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে কারখানাগুলো এখন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু মহামারী সরবরাহ চেইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যে কারণে প্রস্তুতকারকদের কাঁচামালের পেছনে অধিক খরচ করতে হচ্ছে। এখন তারা অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে পুষিয়ে নেয়ার পথে হাঁটছে।

অন্য জরিপগুলোতেও একই ধরনের দৃশ্য উঠে এসেছে। হিসাবে বলা হচ্ছে, সূচক বাড়ার পরও মার্চ এপ্রিলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকবে। তবে শক্তিশালী উৎপাদন খাত ব্যবসায়িক কার্যক্রমগুলোকে সাহায্য করবে। নির্মাণ সেবা খাতকে অনুসরণকারী পিএমআই আউটপুট ইনডেক্স বলছে, সম্মিলিত সূচক ডিসেম্বরের ৫৫ দশমিক থেকে মাসের শুরুতে ৫৮-তে পৌঁছেছে। যেখানে সেবা খাতের পিএমআই ডিসেম্বরের ৫৪ দশমিক থেকে ৫৭ দশমিক পয়েন্টে গিয়ে পৌঁছেছে।

এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে দুই-তৃতীয়াংশ অবদান রাখা সেবা খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহামারীতে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, বার সমাবেশ কেন্দ্রিক ব্যবসাগুলো মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে সেবা খাতের কর্মস্থান জানুয়ারির শুরুতে ছয় মাসের মাঝে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে। এদিকে শুক্রবার পৃথক আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বাসা-বাড়ি বিক্রি বেড়েছে। যেখানে অবশ্য মূল ভূমিকা রেখেছে পুরনো বাড়ি বিক্রি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০২০ সালে ৫৬ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় দশমিক শতাংশ বেশি।

বাসাবাড়ির চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেয়েছে নির্মাণ খাতসংশ্লিষ্টরা। ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর নতুন বাড়ি নির্মাণ বেড়েছে শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন