সোমবার | মার্চ ০১, ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

দেশের খবর

বাগেরহাটে পুলিশ সদস্যের বিষমুক্ত সবজি চাষে চমক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পতিত জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে চমকে দিয়েছেন বাগেরহাট মডেল থানার কনস্টেবল ভক্ত দাস মণ্ডল। করোনাকালীন তার নিজ হাতে করা সবজিক্ষেতে উৎপাদন হচ্ছে লাউ, বেগুন, বিটকপি, আলু, শিম, গাজর কাঁচামরিচসহ নানা ধরনের সবজি। বিষমুক্ত সবজি মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ব্যারাকের অর্ধশত পুলিশ সদস্যের চাহিদা মেটায়। বাগেরহাট মডেল থানাসংলগ্ন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বাসভবনের পাশে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করেন তিনি।

বাগেরহাট মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ভক্ত দাস মন্ডল বলেন, থানায় যোগদানের কিছুদিন পর করোনাভাইরাস মহামারীতে রূপ নেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, পতিত জমিতে সবজি চাষ করার। আমি আগের কর্মস্থলে সবজি চাষ করে সফলতা পাই। সেপ্টেম্ব্বরের মাঝামাঝি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম আজিজুল হক স্যার বলেন, পতিত জমিতে সবজি চাষ করতে হবে। বিষয়টি আমি জানতে পেয়ে স্যারের অনুমতি নিয়ে চাষের উদ্যোগ নিই। বালি দিয়ে ভরাট করা জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিই। এরপর ওসি স্যারের পরামর্শ নিয়ে জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। স্থানীয়ভাবে গোবর সংগ্রহ করে বেগুন লাউসহ নানা ধরনের সবজির বীজ বপন করি। নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের পর ক্ষেতের যত্ন পরিচর্যা করি। কিছুদিনের মধ্যে গাছে ফুল ফল আসতে থাকে। বর্তমানে গাছে লাউ, বেগুন, শিমসহ বিভিন্ন সবজি রয়েছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পেরে আমি নিজেও খুশি। উৎপাদিত সবজি প্রতিনিয়ত আমাদের মডেল থানার সব সদস্যকে প্রদান করা হয়।

বাগেরহাট মডেল থানার উপপুলিশ পরিদর্শক আছাদুজ্জামান পিপিএম বলেন, ক্ষেতে উৎপাদিত লাউ, শিমসহ বিভিন্ন সবজি মেসে সরবরাহ করছেন। এছাড়া যেসব পুলিশ সদস্য বাসা নিয়ে থাকেন, তাদের বাসায়ও সবজি পাঠানো হয়। আমরা খুবই আনন্দিত যে নিজেদের জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে খেতে পারছি। এর আগে কখনো জমিতে কোনো সবজি আমরা উৎপাদন করতে পারিনি।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, জমিটি পরিত্যক্ত ছিল, ময়লা-আবর্জনা ভরা জমিতে মশা পোকামাকড়ের বসবাস ছিল। আমি যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে জমি চাষাবাদের উদ্যোগ নিই। আমার এক কনস্টেবল চাষাবাদে দক্ষ ছিলেন। তার সঙ্গে কথা বলে জমিতে চাষাবাদ শুরু করি। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করি। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান, সে হিসেবে পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ করতে পারলে ভালো লাগে। বাগেরহাটের সবার প্রতি আমার অনুরোধ, যার যেটুকু জমি আছে সে জমিতে যেন চাষাবাদ শুরু করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন